আজ (৮ মে) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৬১ সালের ২৫ বৈশাখ, ইংরেজি ৮ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করা এই মহামানব। দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।
বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলা সাহিত্যের মহোত্তম কণ্ঠস্বর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার অমর অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তার বিদেহী আত্মার জন্য কামনা করি অনন্ত শান্তি।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণই ছিল তার অবিনাশী সৃজনশীলতার মূল অন্বেষা। কাব্য, সংগীত, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য ও চিত্রকলার পরতে পরতে তিনি মানুষ, মানবতা, শান্তি, প্রেম ও প্রকৃতির জয়গান গেয়েছেন অনন্য শৈল্পিক কুশলতায়, যা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তার জগতের অমূল্য সম্পদ।”
মাত্র আট বছর বয়সে লেখালেখির সূচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিষয়বৈচিত্র্য ও সৃষ্টির বিপুলতায় তিনি বাংলা সাহিত্যকে পৌঁছে দেন অনন্য উচ্চতায়। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে গীতাঞ্জলি, সোনার তরী ও বলাকা। উপন্যাসে গোরা, ঘরে বাইরে ও শেষের কবিতা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। ছোটগল্পে কাবুলিওয়ালা, পোস্টমাস্টার ও ছুটি আজও পাঠকমহলে সমাদৃত।
নাট্যসাহিত্যে রক্তকরবী, ডাকঘর ও চণ্ডালিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গীতিকার ও সুরস্রষ্টা হিসেবেও তিনি ছিলেন অনন্য। তার শিল্পীসত্তার স্পর্শে বাংলা চিত্রকলাও পেয়েছে নতুন মাত্রা।
সাহিত্যসৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষাবিস্তার, সমাজকল্যাণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মানবিক ও আধুনিক শিক্ষার আদর্শ নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী। এছাড়া কৃষক ও পল্লি উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু করেছিলেন কৃষিঋণব্যবস্থা। ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইটহুড খেতাব ত্যাগ করেন তিনি।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা সুন্দরী দেবী দম্পতির ১৫ সন্তানের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ১৪তম। শৈশব থেকেই সংস্কৃতিমনস্ক পারিবারিক পরিবেশ তার মনন ও সৃজনশীলতাকে বিকশিত করে। পরবর্তীকালে বাংলার নদীবিধৌত জনপদে নৌভ্রমণের অভিজ্ঞতা তার সাহিত্যকর্মে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তার গান যুগিয়েছে সাহস ও প্রেরণা। আমার সোনার বাংলা আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে বাঙালির গর্বের প্রতীক।
বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!