রাজধানীতে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী এক আনন্দ র‍্যালি, যেখানে ফুটে ওঠে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত “নববর্ষের আনন্দ র‍্যালি” শীর্ষক এই শোভাযাত্রা ছিল ভিন্নমাত্রার সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় সমৃদ্ধ।   ছবি: আরটিএনএন

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে রাজধানীতে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী এক আনন্দ র‍্যালি, যেখানে ফুটে ওঠে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত “নববর্ষের আনন্দ র‍্যালি” শীর্ষক এই শোভাযাত্রা ছিল ভিন্নমাত্রার সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় সমৃদ্ধ।

গত বছরে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির উদ্যোগে শুরু হওয়া এই র‍্যালির ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনও তাঁকে স্মরণ করে শুরু হয়। র‍্যালিটি শাহবাগ (শহীদ হাদি চত্বর) থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে বিরতি নেয় এবং সেখানে গ্রামীণ খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয়ক নানা আয়োজন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

WhatsApp Image 2026-04-14 at 12-41-23 PM

শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল গ্রামীণ খাবারের উপস্থিতি। অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা যায় মুড়ি, বাতাসা এবং প্রায় হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘কটকটি’। এই আয়োজন শহুরে জীবনে হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার স্বাদ ও স্মৃতিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনে।

আয়োজকদের ভাষ্য, বাংলা নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয়; এটি বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয়ের প্রতীক। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সংস্কৃতির অনেক উপাদান হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই র‍্যালির আয়োজন।

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিগত সময়ে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আড়াল করে বিদেশি সংস্কৃতিকে বাঙালির ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে। আমরা এই আয়োজনের মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছি, বাংলার প্রকৃত সংস্কৃতি কী।” তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে শহর ও গ্রামের সাংস্কৃতিক ব্যবধান কমবে এবং বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।