ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে এবারের বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ছিল প্রতীক, ঐতিহ্য ও সমকালীন ভাবনার এক অনন্য মেলবন্ধন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে এবারের বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ছিল প্রতীক, ঐতিহ্য ও সমকালীন ভাবনার এক অনন্য মেলবন্ধন।   ছবি: আরটিএনএন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে এবারের বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ছিল প্রতীক, ঐতিহ্য ও সমকালীন ভাবনার এক অনন্য মেলবন্ধন। বাংলা সন ১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে আয়োজিত এ শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।

এবার শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ ছিল পাঁচটি প্রধান মোটিফ, যার প্রতিটিই বহন করেছে আলাদা বার্তা।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ‘মোরগ’ মোটিফ নতুন ভোর, জাগরণ ও আশার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর গণতান্ত্রিক পুনরুত্থানের প্রত্যাশাকে ইঙ্গিত করে এই প্রতীক অন্ধকার কাটিয়ে নতুন আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান হিসেবে ধরা হয়েছে।

সংস্কৃতি ও শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোভাযাত্রায় স্থান পেয়েছে ‘দোতারা’ মোটিফ। সাম্প্রতিক সময়ে লোকসংগীত ও বাউল ঐতিহ্যের ওপর হামলা ও অবমূল্যায়নের প্রতিবাদ হিসেবে এটি সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ও ঐতিহ্য রক্ষার বার্তা বহন করেছে।

‘পায়রা’ মোটিফ শান্তি, সহাবস্থান ও বৈশ্বিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে শোভাযাত্রায় যুক্ত হয়। বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য ও শান্তির সমাজ গঠনের আহ্বানই এর মূল বার্তা।

লোকশিল্পের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে ‘কাঠের হাতি’ মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে, যা নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের অনুপ্রেরণায় নির্মিত। এটি বাংলার লোকশিল্পের শক্তি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে।

অন্যদিকে গ্রামীণ জীবনের প্রাণবন্ত সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করেছে ‘টেপা ঘোড়া’ মোটিফ। এটি বাংলার গ্রামীণ খেলনা ও লোকজ ঐতিহ্যের নান্দনিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার প্রতীক।

এবার নিরাপত্তার স্বার্থে মুখোশ পরা নিষিদ্ধ থাকায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে মুখোশ নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রার অগ্রভাগে ছিল পুলিশের সুসজ্জিত ১২টি ঘোড়ার বহর এবং এর পরেই জাতীয় পতাকা হাতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে করে তোলে আরও গৌরবময়।

‘এসো হে বৈশাখ’সহ দেশাত্মবোধক গানের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। শোভাযাত্রা শেষে টিএসসি প্রাঙ্গণে লোকজ গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন সম্পন্ন হয়।

সব মিলিয়ে চারুকলার এই শোভাযাত্রা শুধু উৎসব নয়, বরং সংস্কৃতি, ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চেতনার এক প্রতীকী প্রকাশ হয়ে উঠেছে।