ভোরের আলো ফুটতেই রমনার বটমূল মুখরিত হয়ে উঠল কয়েকশ শিল্পীর সম্মিলিত কণ্ঠে। ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের সুরে যাত্রা শুরু হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর। বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখের প্রভাতি আয়োজনে বরাবরের মতো এবারও নেতৃত্ব দেয় দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে প্রায় ২০০ শিল্পীর সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন। উদ্বোধনী সংগীতের পর শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করেন ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ এবং ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’র মতো কালজয়ী গানগুলো।
এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য করা হয়েছে— ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। এই মূল ভাবনার ওপর ভিত্তি করেই সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন। ছায়ানট জানিয়েছে, এবারের অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হচ্ছে মোট ২২টি গান ও দুটি পাঠ।
অনুষ্ঠানে স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ ও জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান। এর পাশাপাশি রয়েছে লোকগানের বিশেষ পরিবেশনা।
১৯৬৭ সাল থেকে প্রতিবছর রমনার এই বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। পাকিস্তান আমলে বাঙালির সংস্কৃতিকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিলেন সনজীদা খাতুন ও ওয়াহিদুল হকের মতো ব্যক্তিত্বরা, সেই ঐতিহ্যের ধারক হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই অনুষ্ঠান। রবীন্দ্র-নজরুল ও লোকজ সুরের মাধ্যমে ছায়ানট দেশে এক অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনা গড়ে তুলেছে।
বিটিভি সরাসরি সম্প্রচার করছে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠান। এ ছাড়া ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজেও অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখা যাচ্ছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!