আজকাল স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। রিলস, পডকাস্ট, বা প্রিয়জনের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে একদিকে যেমন বিনোদন পাই, অন্যদিকে তেমনি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।
স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো ও তার ক্ষতিকর প্রভাব
স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের এলইডি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের মেলানিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা মস্তিষ্ককে ঘুমের সংকেত পাঠায়। এর ফলে, ঘুমের অভাব সৃষ্টি হয় এবং মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি হতে থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্কের নিউরনের ডেনড্রাইটিক স্পাইন শুকিয়ে যায়, ফলে শেখার ও মনে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।
ডিজিটাল ওবেসিটি: স্মার্টফোনের আসক্তি ও শরীরের মাইক্রোবায়োম
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ডের আলাদা গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন আসক্তি আমাদের পাকস্থলীর উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োম ধ্বংস করে। এ কারণে, সেরোটোনিন (সুখের হরমোন) উৎপাদনে সমস্যা সৃষ্টি হয়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঘুমের অভাব এবং স্ক্রিন স্ট্রেসের কারণে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি হয়, যা মস্তিষ্কের বার্ধক্য সৃষ্টি করতে পারে—এটি "প্রদাহজনিত বার্ধক্য" নামে পরিচিত।
আলঝেইমার্স ও ডিমেনশিয়া: স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কৃত্রিম আলো পাকস্থলীর দেয়াল পাতলা করে, যা ক্ষতিকর প্রোটিন রক্তে মিশিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় এবং আলঝেইমার্স বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়া আমাদের মস্তিষ্কে শারীরিক ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে, যা পরবর্তীতে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তার সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ডোপামিন আসক্তি: নোটিফিকেশনের ক্ষুদ্র ডোজ
প্রতিটি নোটিফিকেশন আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিনের ক্ষুদ্র ডোজ পাঠায়, যা মস্তিষ্ককে আরও উদ্দীপিত করে। এটি এক ধরনের মাদকাসক্তির মতো কার্যকর, যা আমাদের মস্তিষ্ককে আরও উদ্দীপনার জন্য চাপ দেয়।
মস্তিষ্ক ও শরীরের সুরক্ষার জন্য সহজ কৌশল
তবে আশার কথা হলো, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে আমাদের জৈবিক ঘড়ি আবার আগের মতো কাজ শুরু করতে পারে।
এ জন্য ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন থেকে দূরে থাকতে হবে। বেলা তিনটার পর ক্যাফেইন বা চা-কফি থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব থেকে আমাদের বাঁচতে হলে, জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত ঘুম, স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা, এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আমাদের সাহায্য করতে পারে এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!