নাসার বিজ্ঞানীদের একের পর এক মৃত্যু ও নিখোঁজ, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।
নাসার বিজ্ঞানীদের একের পর এক মৃত্যু ও নিখোঁজ, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিজ্ঞানীর সাম্প্রতিক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মাইকেল হিকসের মৃত্যুকে ঘিরে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

মাইকেল হিকস দীর্ঘদিন ক্যালিফোর্নিয়ার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরিতে কাজ করেছেন। তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তার মৃত্যু হলেও মৃত্যুর কারণ বা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বিভিন্ন মহাকাশ মিশন ও গ্রহাণু পর্যবেক্ষণ প্রকল্পে কাজ করেছিলেন।

তার মৃত্যুকে ঘিরে সরাসরি কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ না মিললেও, তার শোকবার্তায় দাতব্য অনুদানের অনুরোধ উল্লেখ ছিল, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানের আরেক বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ডও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রহস্যজনকভাবে মারা যান।

এরপর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নাসা ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন বিজ্ঞানী বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ বা অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এর মধ্যে জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির সাবেক পরিচালক মোনিকা রেজা ২০২৫ সালের জুনে হাইকিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল উইলিয়াম নীল ম্যাককাসল্যান্ড বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। জেপিএলের বিজ্ঞানী কার্ল গ্রিলমেয়ার তার বাড়ির বারান্দায় খুন হন বলেও দাবি করা হয়েছে।

লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির কয়েকজন কর্মী নিখোঁজ হন এবং ফিউশন শক্তি গবেষক নুনো লুরেইরো নিজ বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ক্যানসার গবেষক জেসন থমাস দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসব ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে। একের পর এক একই ধরনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।

এফবিআইয়ের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। তার মতে, এসব বিজ্ঞানী সংবেদনশীল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতেন, যা বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার আগ্রহের কারণ হতে পারে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

সিমু/আরটিএনএন