মাউস ট্র্যাকিং সফটওয়্যার নিয়ে ক্ষুব্ধ মেটা কর্মীরা, শুরু হয়েছে প্রতিবাদ, মেটা, মাউস ট্রাকিং সফটওয়ার, নজরদারি, কর্মী ছাটাই,  ফেসবুক, মার্ক জুকারবার্গ, প্রযুক্তি, তথ্য ও প্রযুক্তি, এআই,
মেটার কর্মীরা প্রতিবাদ শুরু করেছে।   ছবি: সংগৃহীত

কর্মীদের কম্পিউটারে মাউস ট্র্যাকিং সফটওয়্যার চালুর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অফিসে লিফলেট বিতরণ ও অনলাইন পিটিশনের মাধ্যমে কর্মীরা এই নজরদারিমূলক প্রযুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা ছবিতে দেখা গেছে, মিটিং রুম, ভেন্ডিং মেশিন থেকে শুরু করে টয়লেট পেপার ডিসপেনসার পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদী লিফলেট রাখা হয়েছে। এসব লিফলেটে কর্মীদের একটি অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘এমপ্লয়ি ডেটা এক্সট্র্যাকশন ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে চান না?’

কর্মীদের অভিযোগ, মেটা সম্প্রতি তাদের কম্পিউটারে এমন একটি সফটওয়্যার যুক্ত করেছে, যা মাউসের নড়াচড়া, ক্লিক এবং বিভিন্ন মেনু ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। অনেক কর্মীর আশঙ্কা, এই তথ্য ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে, যা একসময় মানবকর্মীদেরই প্রতিস্থাপন করবে।

এই প্রতিবাদ এমন সময় সামনে এলো, যখন মেটা আগামী সপ্তাহে তাদের মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাই করতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক মাস ধরেই প্রতিষ্ঠানটির এআইভিত্তিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য চাকরি কাটছাঁট নিয়ে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল।

প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি মেটার ভেতরে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম বড় প্রকাশ। কর্মীদের একটি অংশ এখন সংগঠিতভাবে কর্মপরিবেশ, নজরদারি এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে এই প্রযুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন এক বিবৃতিতে বলেন, মানুষ কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে, সে বিষয়ে বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। মাউসের নড়াচড়া, ক্লিক এবং বিভিন্ন মেনু ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করলে এআই মডেল আরও কার্যকরভাবে উন্নত করা সম্ভব হবে।

মেটার দাবি, তারা এমন এআই এজেন্ট তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কম্পিউটারভিত্তিক কাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। আর সে কারণেই ব্যবহারকারীদের বাস্তব আচরণ বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে, কর্মীদের পিটিশন ও লিফলেটে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইনের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কর্মপরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে সংগঠিত হওয়া কর্মীদের আইনগত অধিকার।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, যুক্তরাজ্যেও মেটার কিছু কর্মী ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা ‘ইউনাইটেড টেক অ্যান্ড অ্যালাইড ওয়ার্কার্স’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছেন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য আলাদা ওয়েবসাইটও চালু করেছেন।

সংগঠনটির প্রতিনিধি এলিনর পেইনের ভাষ্য, মেটার কর্মীরা বর্তমানে ব্যবস্থাপনার “ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল এআই কৌশলের” চাপ বহন করছেন। তাঁর দাবি, কর্মীদের একদিকে চাকরি হারানোর শঙ্কায় রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে এমন প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের জায়গা দখল করতে পারে।