আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি।   ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মতো মহামঞ্চে দেখা হচ্ছে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। তবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের উত্তাপ কেবল মাঠের ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নেই; দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক চরম উত্তেজনা মাথায় রেখে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পুরো ম্যাচ জুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।

গোয়েন্দা সংস্থাটি মনে করছে, মাঠ ও মাঠের বাইরের বৈরিতার কারণে এটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ‘হাই রিস্ক’ (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ) ম্যাচ। আর এ কারণেই ম্যাচটিকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যকার ঐতিহাসিক সংঘাত ও চরম উত্তেজনার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ পুরো শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। স্টেডিয়াম এলাকা, বিনোদন কেন্দ্র এবং দর্শনার্থীদের জনাকীর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে আটলান্টা পুলিশ জানায়, ঐতিহাসিক এই সেমিফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আটলান্টা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধ করতে এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার এই তীব্র ফুটবল বৈরিতার নেপথ্যে রয়েছে ১৯৮২ সালের ঐতিহাসিক ফকল্যান্ড যুদ্ধ। মাত্র ৭৪ দিনের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সৈন্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং ৩ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। আর্জেন্টিনা এই দ্বীপপুঞ্জকে 'লাস ভিনাস' নামে ডাকে এবং দুই দেশের মধ্যে এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ এখনও রাজনৈতিকভাবে চলমান।

রাজনৈতিক এই বৈরিতার ছায়া পড়েছে চলতি বিশ্বকাপেও। এবারের আসরে শেষ ১৬-র ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে একটি বিশেষ গান গাইতে দেখা যায়। যে গানের কথায় ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের ঐতিহাসিক ক্ষতের পাশাপাশি কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির উল্লেখ ছিল। মাঠের লড়াইয়ে সেই রাজনৈতিক আবেগের বিস্ফোরণ ঠেকাতেই এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মার্কিন প্রশাসন।