মহাকাব্যিক কামব্যাকে ইংল্যান্ড বধ, থ্রিলার জয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
মহাকাব্যিক কামব্যাকে ইংল্যান্ড বধ, থ্রিলার জয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা।   ছবি: সংগৃহীত

কামব্যাকের সাধারণ কোনো গল্প নয়, কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যেন এবার লিখছে এক অনন্য মহাকাব্য। চলতি আসরের নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের হাসি হেসেছেন লিওনেল মেসিরা। সেই ধারাবাহিকতায় সেমিফাইনালের মেগা ফাইটেও শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের জাদুকরী পারফরম্যান্সে জোড়া গোল করে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংলিশদের স্তব্ধ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথটা ছিল রোমাঞ্চে ঠাসা। নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে পুঁচকে কেপ ভার্দের বিপক্ষে হারতে বসেছিল তারা। তবে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে আকাশি-সাদারা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে টুর্নামেন্ট সেরা জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের আগে সুইসদের বিপক্ষেও লিড নেওয়ার পর তা হারিয়ে ফেলেছিল লিওনেল স্কালোনির দল, কিন্তু সেখান থেকেও দুর্দান্তভাবে কামব্যাক করে তারা।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই মাঠের ফুটবলের চেয়ে শারীরিক শক্তিতে মেতে ওঠে। আক্রমণের চেয়ে একে অপরকে ফাউল করার প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের বাড়ানো চমৎকার এক ক্রস থেকে ওয়ান টাচ শটে বল জালে জড়ান ইংলিশদের তরুণ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন। তার এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

পিছিয়ে পড়ার পর আর বসে থাকেনি আর্জেন্টিনা। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। দীর্ঘদেহী ইংলিশ ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারা সত্ত্বেও একের পর এক ক্রস খেলে সুযোগ তৈরি করতে থাকে স্কালোনির শিষ্যরা। ইংলিশরা রক্ষণভাগে চীনের প্রাচীর গড়ে তুললেও ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ভাঙন ধরে তাতে। ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো বুলেট শট নেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড ডানদিকে লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি। ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাজিক দেখায় কামব্যাক স্পেশালিস্ট আর্জেন্টিনা। সমতায় ফেরার পরও আক্রমণের ধার কমাননি মেসিরা। যার চূড়ান্ত ফল আসে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে)। ম্যাচের অধিনায়ক লিওনেল মেসি ডানপ্রান্ত থেকে নিখুঁত এক ক্রস বাড়ান ইংল্যান্ডের ডি-বক্সে। সেখানে আন-মার্কড অবস্থায় থাকা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ দর্শনীয় হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন। গ্যালারিতে তখন আকাশি-সাদার বাঁধভাঙা জোয়ার। মার্টিনেজের এই স্বর্ণালী গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ফাইনাল টিকিট।

আগামী ১৯ জুলাই (রবিবার) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন, যারা দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে, আগামী ১৮ জুলাই টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে পরাজিত দুই দল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।