“ভাতঘুম” আদৌ শরীরের জন্য ভালো নাকি ক্ষতিকর এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে।
“ভাতঘুম” আদৌ শরীরের জন্য ভালো নাকি ক্ষতিকর এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে।   ছবি: সংগৃহীত

দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম অনেকেরই অভ্যাস। কেউ বাসায় থাকলে আরাম করে ঘুমিয়ে নেন, আবার অফিসে থাকলে চেয়ারে হেলান দিয়ে কিছুক্ষণ ঝিমিয়ে নেন। তবে এই “ভাতঘুম” আদৌ শরীরের জন্য ভালো নাকি ক্ষতিকর এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে।

কেন দুপুরে ঘুম আসে?

ভারী বা বেশি খাবার খাওয়ার পর শরীরে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে শরীরের অনেক শক্তি সেই কাজে ব্যয় হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তি ও ঝিমুনিভাব তৈরি হয়। পাশাপাশি খাবারের কারণে রক্তে ইনসুলিনের পরিবর্তন ঘটে, যা মস্তিষ্কে কিছু হরমোনের প্রভাব ফেলে এবং ঘুম ঘুম ভাব বাড়ায়।

দুপুরের অল্প ঘুমের উপকারিতা

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
সংক্ষিপ্ত সময়ের দুপুরের ঘুম শরীরকে রিল্যাক্স করে, ফলে রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বাড়ায়
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০–৩০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ মনোযোগ ও মনে রাখার ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

সৃজনশীলতা বাড়ায়
অল্প সময় বিশ্রাম নেওয়ার পর মস্তিষ্ক আরও সতেজভাবে চিন্তা করতে পারে, ফলে নতুন আইডিয়া বা সৃজনশীলতা বাড়ে।

মানসিক চাপ কমায়
দুপুরের ছোট ঘুম উদ্বেগ ও মানসিক ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে, মনকে শান্ত করে।

শারীরিক ক্লান্তি দূর করে
রাতের ঘুম ঠিকমতো না হলে দিনের মধ্যে এই ছোট ঘুম শরীরকে পুনরায় শক্তি জোগায় এবং কাজের উদ্যম ফিরিয়ে আনে।

সাধারণভাবে অল্প সময়ের (২০–৩০ মিনিট) দুপুরের ঘুম ক্ষতিকর নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে উপকারী। তবে দীর্ঘ সময় ঘুমালে অলসতা বা রাতের ঘুমে সমস্যা হতে পারে।

পরিমিত সময়ে অল্প বিশ্রাম হিসেবে দুপুরের ঘুম শরীর ও মনের জন্য ভালো হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত না করে সময় ও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সিমু/আরটিএনএন