ভাত ভালো নাকি রুটি এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা বহুদিন ধরেই চলছে।
ভাত ভালো নাকি রুটি এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা বহুদিন ধরেই চলছে।   ছবি: সংগৃহীত

ভাত ভালো নাকি রুটি এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা বহুদিন ধরেই চলছে। কেউ মনে করেন রুটি বেশি স্বাস্থ্যকর, আবার অনেকে ভাতকেই শরীরের জন্য উপকারী বলেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কোনো একটি খাবারকে এককভাবে ভালো বা খারাপ বলা ঠিক নয়; বরং তা নির্ভর করে মানুষের জীবনযাপন, শারীরিক চাহিদা এবং খাদ্যাভ্যাসের ওপর।

বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের বেশিরভাগ এলাকায় ভাত প্রধান খাদ্য হিসেবে প্রচলিত। অন্যদিকে কিছু অঞ্চলে রুটির ব্যবহার বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাত ও রুটি দুটোতেই কার্বোহাইড্রেট রয়েছে, যা শরীরের শক্তির প্রধান উৎস।

তবে পার্থক্য তৈরি হয় খাবার কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং কোন উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। যেমন, অতিরিক্ত পালিশ করা সাদা চালের তুলনায় কম পালিশ করা চাল বা ব্রাউন রাইস বেশি স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে ফাইবার বেশি থাকে। একইভাবে মিহি আটা বা ময়দার রুটি রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়াতে পারে।

চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা সাধারণত ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি বা দই খাওয়ার পরামর্শ দেন, যা পুষ্টিগুণ বাড়ায় এবং শর্করা ধীরে শোষিত হতে সাহায্য করে। খিচুড়ি বা সবজি মিশিয়ে রান্না করা ভাতও তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়।

অন্যদিকে যারা কম শারীরিক পরিশ্রম করেন বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য আটার রুটি ভালো বিকল্প হতে পারে। কারণ এতে ফাইবার বেশি থাকায় দীর্ঘসময় পেট ভরা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করেন তাদের জন্য ভাত দ্রুত শক্তি জোগায়, তাই এটি উপকারী হতে পারে। আবার যারা দীর্ঘসময় বসে কাজ করেন, তাদের জন্য রুটি তুলনামূলকভাবে ভালো।

পুষ্টিবিদরা আরও বলেন, মূল সমস্যা ভাত বা রুটিতে নয়, বরং অতিরিক্ত শর্করা গ্রহণ এবং কম সবজি খাওয়ার অভ্যাসে। একটি সুষম খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও চর্বির মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ভাত বা রুটি কোনোটিই এককভাবে ভালো বা খারাপ নয়। নিজের শরীর, বয়স, কাজের ধরন ও জীবনযাপন অনুযায়ী সঠিক খাবার নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সিমু/আরটিএনএন