বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) এর সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখার একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আলা উদ্দিন (৪২), শাহাদাৎ হোসেন (৩২) এবং মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮)। তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড এবং চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত করে। চক্রটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা, ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করত।
এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে। মামলার নম্বর ৪১ এবং মামলাটি দায়ের করা হয় ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে।
তদন্তে উঠে এসেছে, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবে এসব সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে অনলাইন বেটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে জানা গেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, জুয়ার সাইটগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের মোবাইল আর্থিক সেবা, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হতো। পরে সেই অর্থের বিপরীতে বেটিং হিসাবগুলোতে ইলেকট্রনিক অর্থ বা বট অর্থ যুক্ত করা হতো, যা অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চক্রটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এজেন্ট নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন করত। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব নম্বর সংগ্রহ করা হতো। পরে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে সরবরাহ করা হতো।
সিআইডির দাবি, অবৈধ ই-লেনদেনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ থেকে ২৮ মে ২০২৫ তারিখে জারি করা সার্কুলার নম্বর-০৭ অনুযায়ী অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হলেও চক্রটি তা উপেক্ষা করে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইন বেটিং এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত এবং পুরো চক্রের নেটওয়ার্ক উদঘাটনে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শিমুল/এসএস
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!