অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।   ছবি: আরটিএনএন

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ মোট আট সদস্যকে  গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটি অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করতো এবং সেই অর্থ হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতো বলে জানিয়েছে সিআইডি।

রবিবার (১৭ মে) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেন, গত প্রায় ছয় মাস ধরে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট ও নগদ, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করতো। পরে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), সজীব চক্রবর্তী (২৯), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), মো. জসীম উদ্দীন (৩৬), তৈয়ব খান (২৬), সৌমিক সাহা (২৮), মো. কামরুজ্জামান (৩৬) ও আব্দুর রহমান (৪৭)।

সংবাদ সম্মেলনে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনলাইন জুয়ার প্রতি সাধারণ মানুষকে প্রলোভিত করে চক্রটি প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতো। এসব অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হতো।

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় দেখতে পায়, একটি চক্র আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করছে। এসব প্ল্যাটফর্মে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হচ্ছিল। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এরপর গত ৬ মে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি দল ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্য মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, মো. আশরাফুল ইসলাম ও মো. জসীম উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ মে নরসিংদী জেলার পলাশ থানা এবং ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও চার সদস্য তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, মো. কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমানকে  গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে মোট ১৩টি মোবাইল ফোন। এর মধ্যে প্রথম অভিযানে সাতটি এবং দ্বিতীয় অভিযানে ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মোট ২০টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। প্রথম অভিযানে দুটি এজাহারভুক্ত বিকাশ এজেন্ট সিম এবং দ্বিতীয় অভিযানে বিভিন্ন অপারেটরের ১৮টি সিম উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের দুটি নির্দিষ্ট কাস্টমার কপিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কুরিয়ার রশিদও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেন, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং সেই অর্থের বড় একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।


শিমুল/এসএস