তুরাগে অটোরিক্সা চালক হত্যা রহস্য উন্মোচন,
তুরাগে অটোরিক্সা চালক হত্যা রহস্য উন্মোচন,   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীর তুরাগ থানার আলোচিত অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম (৪২) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‍্যাব-১। এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাইফুল ইসলাম তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরবর্তীতে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে তুরাগ থানা এলাকায় একটি লেক থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি সাইফুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোনো এক সময় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে লেকে ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও ছিনতাই করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর র‍্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।

তদন্তের একপর্যায়ে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা জেলার ধামরাই থানার স্ট্যান্ড ওভারব্রিজ এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. শহীদুল ইসলামকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় মেট্রোরেল ভবনের সামনে থেকে অপর আসামি স্বপন শেখ ওরফে কবির শেখকে (২৮) আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত বলে স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বাবুলের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি চক্র যাত্রী সেজে সাইফুল ইসলামকে ভাড়া করে তুরাগের কামারপাড়া এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি কাঁচাবাজারের ভেতরে তাকে অচেতন করা হয়। পরে তাকে অটোরিকশাযোগে তুরাগের ১৬ নম্বর সেক্টরের একটি লেকে নিয়ে গিয়ে পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর মূল পরিকল্পনাকারী বাবুল অটোরিকশাটি বিক্রি করে এবং সেই অর্থ থেকে শহীদুলকে সাত হাজার টাকা ও স্বপনকে বিকাশের মাধ্যমে চার হাজার টাকা প্রদান করে। এ ঘটনায় জড়িত বাবুল, নাইম, সোবাহান ও নার্গিস ইতোমধ্যে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তুরাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

শিমুল/এসএস