টিউশন বা কোচিং শেষে বাসায় ফেরার সময় শিক্ষার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন
টিউশন বা কোচিং শেষে বাসায় ফেরার সময় শিক্ষার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন।   ছবি: এআই

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কাকরাইল মোড়। একদিকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, হোটেল ও গণপরিবহনের চাপ। সব মিলিয়ে দিনভর মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে পুরো এলাকা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার পর কাকরাইলের কিছু অংশ যেন ছিনতাইকারী, বখাটে ও মাদকসেবীদের দখলে চলে যায়।

কাকরাইল মোড়ের আশপাশে রয়েছে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, শান্তিনগর, বিজয়নগর, পল্টন ও রমনা এলাকার সংযোগ। এ ছাড়া বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, ছাত্রাবাস, রেস্টুরেন্ট ও বাস কাউন্টার থাকায় প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন।

বুধবার (২০ মে) স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার পর ফুটপাত ও গলির কিছু অংশে বখাটে ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। অনেক সময় প্রকাশ্যেই গাঁজা, ইয়াবা ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের অভিযোগও পাওয়া যায়। এতে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকেন নারী ও শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ছিনতাইকারীরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়। কেউ হেঁটে, আবার কেউ মোটরসাইকেলে এসে পথচারীদের টার্গেট করে। বিশেষ করে টিউশন বা কোচিং শেষে বাসায় ফেরার সময় শিক্ষার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। মোবাইল ফোন, ব্যাগ, মানিব্যাগ এমনকি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।

একটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, টিউশন শেষে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ দুইজন এসে ফোনটা টেনে নিয়ে যায়। আশপাশে মানুষ থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

আরেক নারী ভুক্তভোগী বলেন, মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবক মুহূর্তের মধ্যে গলার চেইন টেনে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা উধাও হয়ে যায়।

স্থানীয় দোকানদারদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া দিতে গিয়ে তারাও হুমকির মুখে পড়েন। তাদের অভিযোগ, এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারির অভাবে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দিন দিন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অভিভাবকরাও। অনেক অভিভাবক বলেন, সন্ধ্যার পর সন্তানদের কোচিং বা টিউশনে পাঠাতে আতঙ্কে থাকতে হয়। বিশেষ করে মেয়েশিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

পথচারীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারি ও পুলিশি টহল বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী ও রাতে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে রমনা থানার ওসি রাহাত খান আরটিএনএনকে জানান, সম্প্রতি কাকরাইল মোড় ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাইয়ের কিছু ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে রমনা থানা পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করছে। 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে এবং এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।