শমিংমলগুলোতে গত বছরের তুলনায় ক্রেতা কম, আর যারা আসছেন তারাও খুব হিসেব করে খরচ করছেন।
শমিংমলগুলোতে গত বছরের তুলনায় ক্রেতা কম, আর যারা আসছেন তারাও খুব হিসেব করে খরচ করছেন।   ছবি: আরটিএনএন

ঈদের আর মাত্র চার দিন বাকি। অথচ রাজধানীর শপিংমলগুলোতে এখনো দেখা মেলেনি সেই চিরচেনা কেনাকাটার উন্মাদনা। বড় বড় ব্র্যান্ডের আকর্ষণীয় ছাড়, ‘ফ্ল্যাট ৫০% অফ’–এর ব্যানার কিংবা নতুন কালেকশনের প্রচারণা এসব কিছুই যেন টানতে পারছে না ক্রেতাদের। বিক্রয়কর্মীরা সময় পার করছেন অলস বসে, আর ব্যবসায়ীরা দিন গুনছেন শেষ মুহূর্তে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশায়।

শনিবার (২৩ মে) ঢাকার বিভিন্ন শপিংমল ও বাণিজ্যিক এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এবারের ঈদবাজার অনেকটাই ধীরগতির। সন্ধ্যার পর কিছুটা ভিড় বাড়লেও, সেই তুলনায় বিক্রি নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় ক্রেতা কম, আর যারা আসছেন তারাও খুব হিসেব করে খরচ করছেন।

বেইলি রোডের একটি ফ্যাশন হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবার এখনো জমে ওঠেনি ঈদের বাজার। তার ভাষায়, “লোকজন আসে, দেখে, দাম জিজ্ঞেস করে চলে যায়। আগের মতো একসঙ্গে কয়েকটি পোশাক কেনার প্রবণতা এখন খুব কম।”

শুধু একটি দোকান নয়, একই চিত্র দেখা গেছে বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানেও। বিক্রেতাদের দাবি, প্রচণ্ড গরম, অর্থনৈতিক চাপ এবং সীমিত খরচের মানসিকতার কারণে মানুষ এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাইরে খরচ কমিয়ে দিয়েছে।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের বিক্রয়কর্মী রাকিব হাসান জানান, সন্ধ্যার পর ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা বাড়লেও রাত ১০টার মধ্যেই দোকান বন্ধ করতে হয়। তার মতে, বেশিরভাগ মানুষ অফিস শেষে রাতে কেনাকাটায় আসেন। তাই ঈদ উপলক্ষে দোকান খোলা রাখার সময় আরও বাড়ানো হলে বিক্রি বাড়ার সুযোগ তৈরি হতো।

অনেকের মতে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে মানুষের বড় একটি অংশের বাজেট এখন কোরবানিকেন্দ্রিক। ফলে পোশাক বা ফ্যাশন কেনাকাটা তালিকার নিচের দিকে চলে গেছে। পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তাও শপিংমলের ভিড় কমার একটি কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় বড় প্রভাব ফেলেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখন বাড়তি খরচের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক। ফলে ছাড় দিয়েও আগের মতো ক্রেতা টানা যাচ্ছে না।

এখন শুধু ডিসকাউন্ট দিলেই বিক্রি বাড়ে না। ক্রেতারা পণ্যের মান, প্রয়োজন এবং বাজেট, সবকিছু হিসেব করেই কেনাকাটা করছেন। কেউ কেউ আবার ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে আরও বেশি ছাড়ের আশায় অপেক্ষা করছেন।

ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদের শেষ কয়েক দিনে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে। তবে আপাতত রাজধানীর ঝলমলে শপিংমলগুলোতে উৎসবের আমেজের চেয়ে উদ্বেগই বেশি চোখে পড়ছে। 

শিমু/এসএস