আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ২০২৬ উপলক্ষে নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন নিরাপদ রাখতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও খেয়াঘাটে বাড়ানো হয়েছে টহল কার্যক্রম। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সদস্য ও উচ্চগতির বোট। যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ডুবুরি দলও।
রবিবার (২৪ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ জোনের আওতাধীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাটে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোলার ইলিশা, খেয়াঘাট, ভেদুরিয়া, নাজিরপুর ও চৌমূহনী, লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ও আলেকজান্ডার, বরিশালের ডিসি ঘাট, উলানীয়া ও পুরাতন হিজলা, পটুয়াখালীর আলীপুর, কালাপাড়া ও বাউশিয়া, নোয়াখালীর তমরুদ্দি ও রাম নেওয়াজ এবং বরগুনার কাকচিড়া ও পাথরঘাটাসহ গুরুত্বপূর্ণ ঘাটসমূহ।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কন্ট্রোল রুমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশি এবং যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
ঈদ উপলক্ষে কোরবানির পশু পরিবহন নিরাপদ রাখতে নদীপথে বিশেষ টহল পরিচালনা করছে কোস্ট গার্ড। গরু, মহিষসহ অন্যান্য পশুর চোরাচালান প্রতিরোধেও সক্রিয় রয়েছে টহল টিম। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতেও কাজ করছে সংস্থাটি।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত স্থান ছাড়া ছোট বোট বা ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার জন্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে জনগণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের এ নিরাপত্তা কার্যক্রম ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সবসময় বদ্ধপরিকর এবং জনগণের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শিমুল পারভেজ/এসএস
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!