চাকরি বাজার
গ্রাজুয়েটদের চাকরির বাজার উপযোগী কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদদের আহবান।   ছবি: আরটিএনএন

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি গ্রাজুয়েটদের চাকরিবাজার উপযোগী কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরির আহবান জানিয়েছেন, দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ান-এ অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনের তৃতীয় দিনে ‘উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপরেখা: গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি ও ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া সহযোগিতা’ শীর্ষক সেশনে তারা এ আহবান জানান।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার-এর সভাপতিত্বে সেশনে বক্তৃতা করেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস-এর রেক্টর মেজর জেনারেল (অব.) শহীদ কায়ানি এবং আইসিডিডিআরবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ।

এ ছাড়া আলোচক হিসেবে অংশ নেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেন, শিল্প–একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের চাহিদা উপেক্ষা করে কেবল শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চাকরিবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য অর্জনে শিল্পখাত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।

সেশনে বক্তারা প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রি রিলেশনস অফিসার নিয়োগ, শিল্পখাতের দক্ষতা চাহিদা নিরূপণ এবং ইন্ডাস্ট্রি পার্ক ও সায়েন্স পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

একই সঙ্গে শিল্প ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন ও পাঠ্যক্রম হালনাগাদের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশের ইউজিসি ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশনগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করতেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনের পঞ্চম সেশন ‘উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথরেখা: সহযোগিতা ও নেটওয়ার্কিং’-এ সভাপতিত্ব করেন বিশ্বব্যাংকের প্রাকটিস ম্যানেজার কিকো ইনোউ।

এছাড়া নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর-এর সভাপতিত্বে ষষ্ঠ সেশন ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনের সাথে সংলাপ: সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর’-এ সূচনা বক্তব্য দেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম।

দিনের শেষ সেশন ‘উপাচার্যদের সাথে সংলাপ: হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপট’-এ সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। এতে সূচনা বক্তব্য দেন হিট প্রকল্পের পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান।