অন্যের কল্যাণে খুশি হলে আল্লাহ খুলে দেন রহমতের দরজা
অন্যের কল্যাণে খুশি হলে আল্লাহ খুলে দেন রহমতের দরজা   ছবি: সংগৃহীত

মানুষের অন্তরের সবচেয়ে নীরব অথচ ভয়ংকর ব্যাধিগুলোর একটি হলো হিংসা। অন্যের সাফল্য, সুখ কিংবা সম্মান দেখে অনেক সময় অজান্তেই মানুষের মনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। তখন মনে প্রশ্ন জাগে- সে কেন পেল, আমি কেন পেলাম না? এই অনুভূতি থেকেই জন্ম নেয় হিংসা, অশান্তি ও হৃদয়ের সংকীর্ণতা।

ইসলাম মানুষকে এ প্রবণতা থেকে দূরে থাকতে শিক্ষা দিয়েছে। অন্যের সুখে খুশি হওয়া, তার জন্য দোয়া করা এবং কল্যাণ কামনা করাকে ইসলামে মুমিনের উত্তম চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

কারো ভালো কিছু অর্জন, সফলতা কিংবা নেয়ামত দেখে আন্তরিকভাবে ‘بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ’ (বারাকাল্লাহু ফিকা) অর্থাৎ ‘আল্লাহ তোমার মাঝে বরকত দান করুন বলার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে ইসলামে। বলা হয়, এতে শুধু অন্যের জন্য দোয়া করা হয় না, নিজের অন্তরও হিংসা থেকে পবিত্র হয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ যাদেরকে তোমাদের কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, তোমরা তা লালসা করো না।’ (সুরা আন-নিসা: ৩২)

এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষা দেয়, অন্যের প্রাপ্তি দেখে আফসোস করা মুমিনের কাজ নয়। কারণ মানুষের রিজিক, সম্মান, প্রতিভা ও সফলতা আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত।

হাদিসেও হিংসার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন কাঠকে পুড়িয়ে ফেলে।’ (আবু দাউদ: ৪৯০৩)

ইসলামে বলা হয়েছে, হিংসা শুধু অন্যের ক্ষতি কামনা করে না, এটি মানুষের নিজের অন্তরকেও ধ্বংস করে দেয়। এতে ইবাদতে প্রশান্তি থাকে না, দোয়ায় তৃপ্তি আসে না এবং জীবনের বরকতও কমে যায়।

অন্যদিকে একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয় হলো, সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, অন্যের জন্যও তা-ই কামনা করে। এ বিষয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।’ (বুখারি: ১৩, মুসলিম: ৪৫)

ইসলামে তাই অন্যের সুখে খুশি হতে এবং তার জন্য দোয়া করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কেউ যদি অগোচরে অন্যের জন্য দোয়া করে, তখন ফেরেশতারা তার জন্যও অনুরূপ কল্যাণের দোয়া করেন।

ধর্মীয় আলোচনায় বলা হয়, অন্যের কল্যাণ কামনা করলে মানুষের অন্তর পবিত্র হয়, পারস্পরিক সম্পর্ক সুন্দর হয় এবং সমাজে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বাড়ে। পাশাপাশি মানুষের মনে শান্তিও আসে। কারণ তুলনা মানুষকে অস্থির করে তোলে, আর কৃতজ্ঞতা এনে দেয় প্রশান্তি।

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, পৃথিবীতে সবার পরীক্ষা, রিজিক ও সময় আলাদা। তাই অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা না করে তার ভালো থাকায় খুশি হওয়া এবং তার জন্য দোয়া করাই একজন মুমিনের উত্তম গুণ।