মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল্লাহ আল-বুয়াইজান
মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল্লাহ আল-বুয়াইজান   ছবি: সংগৃহীত

হজকে আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের সর্বোচ্চ ইবাদত হিসেবে অভিহিত করে মুসল্লিদের পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদ ও অনর্থক বিতর্ক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল্লাহ আল-বুয়াইজান।

শুক্রবার (২২ মে) পবিত্র জুমার খুতবায় তিনি বলেন, হজ কেবল একটি ভ্রমণ নয়; বরং এটি মুমিনের জীবনে এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের সুযোগ। এ সময় তিনি হজযাত্রীদের উদ্দেশে নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে একনিষ্ঠভাবে ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন।

হজের পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান
খুতবায় শায়খ আল-বুয়াইজান হজের আরকান ও আহকাম তুলে ধরে বলেন, এই পবিত্র সফরে একজন মুসলমানকে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করতে হবে। দুনিয়াবি বিতর্ক, অশ্লীলতা ও ঝগড়া-বিবাদ হজের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, হজের নির্ধারিত সময়ে অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকতে হবে যা হজের শুদ্ধতার অন্যতম শর্ত।

শৃঙ্খলা ও সরকারি নির্দেশনা মানার গুরুত্ব
মসজিদে নববীর ইমাম হজযাত্রীদের সরকারি নির্দেশনা ও শৃঙ্খলা মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষায়, এসব নির্দেশনা শুধু প্রশাসনিক নয়; বরং মানুষের নিরাপত্তা, জানমালের সুরক্ষা এবং বিশৃঙ্খলা রোধের জন্য অপরিহার্য।

তিনি হজযাত্রীদের ধৈর্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

জিলহজের প্রথম দশকের ফজিলত
খুতবার শেষাংশে তিনি জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব তুলে ধরে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগির আহ্বান জানান। নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও জিকিরের মাধ্যমে এ সময়কে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এই দিনগুলোতে নেক আমল আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়, যা অন্য কোনো সময়ের তুলনায় অধিক মর্যাদাপূর্ণ।

আধ্যাত্মিক শিক্ষার বার্তা
হজকে কেন্দ্র করে দেওয়া এই খুতবা শুধু হজযাত্রীদের জন্য নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এতে বলা হয়, হজের প্রকৃত সৌন্দর্য ধৈর্য, বিনয়, শৃঙ্খলা ও আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণের মধ্যেই নিহিত।