তাকবির ও তালবিয়ায় কাঁপছে মুসলিম বিশ্ব
তাকবির ও তালবিয়ায় কাঁপছে মুসলিম বিশ্ব   ছবি: সংগৃহীত

জিলহজ মাস শুরু হলে বদলে যায় মুসলিম বিশ্বের আবহ। মক্কা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফার পবিত্র ভূমি থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে এক গভীর আধ্যাত্মিক আহ্বান ‘আল্লাহু আকবার’ এবং ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

এই ধ্বনি শুধু হজের আনুষ্ঠানিক অংশ নয়, বরং আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয় মুসলমানদের কাছে।

তাকবির ও তালবিয়ায় মুখর পুরো পরিবেশ
জিলহজের শুরু থেকেই মুসলিম সমাজে বাড়ে ধর্মীয় আবহ। অনেক মুসলিম দেশে মসজিদ, বাড়ি, বাজার এমনকি জনসমাগমস্থলেও তাকবিরে তাশরিকের সুর শোনা যায়।

হজযাত্রীদের কণ্ঠে উচ্চারিত তালবিয়ার ধ্বনি যেন পুরো মুসলিম উম্মাহকে একসূত্রে গেঁথে দেয়। বিশেষ করে মিনার পথে যাত্রা, আরাফাতের ময়দান এবং মুজদালিফার রাত সবখানেই এই ধ্বনি হয়ে ওঠে হজের আবেগ ও আত্মিক কেন্দ্রবিন্দু।

তাকবিরে তাশরিক: নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ আমল
ইসলামি বিধান অনুযায়ী আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব আমল হিসেবে বিবেচিত।

তাকবিরে তাশরিক হলো-

اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد

অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য।

জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর এই তাকবির পাঠ করা হয়। হজে না গেলেও বিশ্বের সব মুসলমানের জন্য এই আমল গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা।

তালবিয়া: হাজির হওয়ার ঘোষণা
তালবিয়া হজ ও ওমরার অন্যতম মৌলিক ঘোষণা। এর মাধ্যমে হাজিরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।

لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ...

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি উপস্থিত। আপনার ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত। আপনার কোনো শরিক নেই। সব প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব আপনারই।

হাজিরা উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করেন, নারীরা নিচু স্বরে। বিশেষ করে আরাফাত, মিনা, মুজদালিফা এবং হজের বিভিন্ন ধাপে এই ধ্বনি বারবার উচ্চারিত হয়।

আধ্যাত্মিকতা ও আত্মসমর্পণের প্রতীক
ধর্মীয় আলেমদের মতে, তাকবির ও তালবিয়া শুধু শব্দ নয় এটি একজন মুমিনের অন্তরের গভীর আত্মসমর্পণের প্রকাশ। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর বড়ত্ব স্বীকার করে এবং তাঁর প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার নবায়ন করে।

জিলহজের এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাকবির ও তালবিয়া পাঠকে সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে উৎসাহিত করা হয়।

ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির আহ্বান
ধর্মীয় মহল মনে করে, এই সময়টিতে তাকবির ও তালবিয়ার চর্চা মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি ও ইমানি চেতনা জাগ্রত করতে সহায়তা করে।

আলেমরা বলেন, এই ধ্বনি মুসলিম উম্মাহকে স্মরণ করিয়ে দেয় সবাই এক আল্লাহর বান্দা, এবং তার স্মরণেই জীবন পরিচালিত হওয়া উচিত।