পরকালের প্রস্তুতি সহজ করবে যে ১০ আয়াত
পরকালের প্রস্তুতি সহজ করবে যে ১০ আয়াত ।   ছবি: সংগৃহীত

ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়া মূলত পরকালের শস্যক্ষেত্র। মানুষের প্রকৃত সফলতা কিংবা ব্যর্থতা নির্ধারিত হবে আখেরাতের চূড়ান্ত পরিণতির ওপর। তাই পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে মুমিনদের বারবার পরকালমুখী জীবন গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়ক এমন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত তুলে ধরা হলো—

১. আখেরাত চাইলে বাড়ে বরকত

যে ব্যক্তি জীবনের লক্ষ্য হিসেবে আখেরাতকে বেছে নেয়, আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখেরাত—উভয় জীবনেই বরকত দান করেন।

অর্থ:
“যে ব্যক্তি আখেরাতের শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তার শস্যক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দান করি। আর যে দুনিয়ার শস্যক্ষেত্র কামনা করে, তাকে তা থেকে কিছু দিই। তবে আখেরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না।”

সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ২০

২. আত্মজিজ্ঞাসাই প্রস্তুতির শুরু

প্রতিটি দিন মানুষকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। তাই আগামী দিনের জন্য কী সঞ্চয় করা হলো, সে হিসাব নেওয়া জরুরি।

অর্থ:
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত ভেবে দেখা যে সে আগামীকালের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে।”
সুরা আল-হাশর, আয়াত: ১৮

৩. প্রকৃত সফলতা কোথায়

দুনিয়ার অর্জন নয়, বরং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাই প্রকৃত সফলতা।

অর্থ:
“প্রত্যেক প্রাণকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে... অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই সফলকাম হবে।”
সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫

৪. আখেরাতের জন্য চেষ্টা অপরিহার্য

শুধু আশা করলেই হবে না; মুমিন অবস্থায় আখেরাতের জন্য আন্তরিক চেষ্টা চালাতে হবে।

অর্থ:
“আর যে আখেরাত কামনা করে এবং মুমিন অবস্থায় তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে, তাদের চেষ্টা স্বীকৃত হবে।”
সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ১৯

৫. দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, আখেরাত চিরস্থায়ী

পার্থিব জীবন সাময়িক ভোগ-বিলাস ও খেল-তামাশা ছাড়া কিছু নয়। স্থায়ী আবাস কেবল আখেরাত।

অর্থ:
“আর এই পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক ছাড়া কিছুই নয়। আর পরকালের আবাসই প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত।”
সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬৪

৬. দুনিয়া ও আখেরাত—উভয়ের কল্যাণ কামনা

মুমিন কেবল দুনিয়ার নয়, বরং দুই জগতের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।

অর্থ:
“হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন।”
সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২০১

৭. স্থায়ী সম্পদ কেবল আল্লাহর কাছে

দুনিয়ার সবকিছু একদিন শেষ হয়ে যাবে। কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা আমলই স্থায়ী থাকবে।

অর্থ:
“তোমাদের কাছে যা আছে তা শেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে তা স্থায়ী।”
সুরা আন-নাহল, আয়াত: ৯৬

৮. মৃত্যুর আগে দান করার আহ্বান

মৃত্যুর পর আফসোস নয়, বরং জীবিত অবস্থায় আল্লাহর পথে ব্যয় করাই মুমিনের দায়িত্ব।

অর্থ:
“আর আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো মৃত্যু আসার আগে। অন্যথায় সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে আরও কিছুকাল সময় দিলে না কেন?”
সুরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত: ১০

৯. সৎকাজে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ

কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

অর্থ:
“তারাই কল্যাণকর কাজে দ্রুত এগিয়ে যায় এবং তারা এ বিষয়ে প্রতিযোগী।”
সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৬১

১০. তাকওয়াবানদের জন্য শ্রেষ্ঠ আবাস

যারা আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করে, তাদের জন্য আখেরাতই সর্বোত্তম ঠিকানা।

অর্থ:
“আর পার্থিব জীবন খেলা ও তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখেরাতের আবাস উত্তম।”
সুরা আল-আনআম, আয়াত: ৩২

আখেরাত কোনো কল্পলোক নয়; এটিই মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য। কোরআনের এসব নির্দেশনা জীবনের অংশ করতে পারলে মানুষ দুনিয়া ও আখেরাত উভয় ক্ষেত্রেই কল্যাণ লাভ করতে পারে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম প্রস্তুতি গ্রহণের তাওফিক দান করুন। আমিন।