কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাবেন যেভাবে
কাজের সময় অযথা অযৌক্তিক দুশ্চিন্তা করবেন না ।   ছবি: সংগৃহীত

কর্মজীবীদের দিনের বড় একটি অংশ কাটে কর্মক্ষেত্রে। কাজের অতিরিক্ত চাপ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ এসব কারণে দৈনন্দিন জীবনে মানসিক চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এই চাপ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যান্ত্রিক এই জীবনে কয়েকটি ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজেকে ভারমুক্ত রাখা সম্ভব।

মানসিক প্রশান্তি ও কাজের গতি বাড়াতে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:

কাজের তালিকা বা ‘টু-ডু লিস্ট’

প্রতিদিনের শুরুতে কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন। সব কাজ একসঙ্গে না করে গুরুত্ব অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। কাজ সহজ করতে স্মার্টফোনে বিভিন্ন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ বা টু-ডু লিস্ট টুলের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের ভারসাম্য

অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করার মানসিকতা গড়ে তুলুন। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসায় অফিসের কাজ বা কল এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের মাঝে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে আসে।

এক সময়ে একাধিক কাজ না করা

অনেকেই একসঙ্গে অনেক কাজ বা 'মাল্টিটাস্কিং' করতে পছন্দ করেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এটি কাজের মান কমিয়ে দেয় এবং মানসিক চাপ বাড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ রেখে মনোযোগের সঙ্গে তা শেষ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কাজের মাঝে বিরতি ও বিনোদন

একটানা কাজ করলে একঘেয়েমি চলে আসে। তাই কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নিন। সাপ্তাহিক ছুটিতে পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান কিংবা কোথাও ঘুরতে যান। এটি মনকে প্রফুল্ল রাখে এবং কাজের নতুন শক্তি জোগায়।

মেডিটেশন ও আলোচনা

মনকে শান্ত রাখতে নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করতে পারেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। কোনো বিষয়ে মতের অমিল হলে বা কাজের চাপ বেশি মনে হলে তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন। এতে ভুল বোঝাবুঝি দূর হয় এবং দলগতভাবে লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।