সাধারণ অভ্যাস বদলেই দূর হতে পারে ব্যাক পেইন।
সাধারণ অভ্যাস বদলেই দূর হতে পারে ব্যাক পেইন।   ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে কোমর ও পিঠের ব্যথা এখন অনেকের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় যেটিকে বয়সজনিত সমস্যা মনে করা হতো, বর্তমানে তা তরুণদের মধ্যেও সমানভাবে দেখা যাচ্ছে। তবে সামান্য সচেতনতা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

পিঠের ব্যথা কমানোর মূল চাবিকাঠি হলো শরীরের কেন্দ্রীয় পেশি বা কোর মাসলের শক্তি। এই পেশিগুলো শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহার কম হওয়ায় ধীরে ধীরে পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ব্যথা দেখা দেয়। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এই পেশিগুলোকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

পেশির নমনীয়তাও অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা একভাবে কাজ করার কারণে পেশি শক্ত হয়ে গেলে মেরুদণ্ডে চাপ বাড়ে। প্রতিদিন অল্প সময় স্ট্রেচিং করার অভ্যাস শরীরকে নমনীয় রাখে এবং ব্যথা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বসার ভঙ্গিমাও পিঠের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। অনেকেই দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে কুঁজো হয়ে বসে থাকেন, যা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনে চাপ সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে উঠে দাঁড়ানো, হাঁটা এবং সোজা হয়ে বসার অভ্যাস পিঠের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।

হাঁটা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর ব্যায়াম। নিয়মিত হাঁটলে শরীর সুস্থ থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। অতিরিক্ত ওজন পিঠে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ব্যাক পেইন কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট অসাবধানতাও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন ভারী জিনিস তোলার সময় ভুল ভঙ্গিতে শরীর বাঁকানো। এতে হঠাৎ পেশিতে টান লেগে তীব্র ব্যথা হতে পারে। তাই ভারী কিছু তোলার সময় পায়ের শক্তি ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নেওয়া উচিত।

ঘুমের ভঙ্গিও পিঠের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সঠিকভাবে না ঘুমালে মেরুদণ্ডে সারারাত চাপ পড়ে। হাঁটুর নিচে বা দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ ব্যবহার করলে পিঠের চাপ কমে এবং ঘুমও আরামদায়ক হয়।

শরীরের অতিরিক্ত ওজন মেরুদণ্ড ও পিঠের পেশিতে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মেরুদণ্ডের গঠনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সুস্থ পিঠের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

এছাড়া ধূমপানের মতো অভ্যাস পিঠের সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। এটি মেরুদণ্ডের ডিস্কে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয় এবং হাড়ের ক্ষয় বাড়ায়। তাই সুস্থ পিঠের জন্য এই অভ্যাস ত্যাগ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পিঠের ব্যথাকে কখনো অবহেলা করা উচিত নয়। জীবনযাত্রার ছোট পরিবর্তনই বড় ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা হঠাৎ তীব্র হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সুস্থ পিঠ মানেই স্বস্তির জীবন।