মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ, পেঁয়াজ-রসুনহীন খাবারে ভিন্নরূপে মেট গালা
মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ, পেঁয়াজ-রসুনহীন খাবারে ভিন্নরূপে মেট গালা।   ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম আড়ম্বরপূর্ণ ফ্যাশন আয়োজন মেট গালা ঘিরে তারকাদের আগ্রহ বরাবরের মতোই তুঙ্গে থাকে। ২০২৬ সালেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। মে মাসের প্রথম সোমবার এই জমকালো আয়োজন বসে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন জাদুঘরে।

এ বছর আয়োজনে আনা হয়েছিল বেশ কিছু নতুনত্ব। অতিথিদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো করতে খাবার, প্রবেশমূল্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। ভারতের পক্ষ থেকে অংশ নেন করণ জোহর, ইশা আম্বানি, অনন্যা বিড়লা, গৌরবী কুমারী, সাওয়াই পদ্মনাভ সিংহ, সুধা রেড্ডি, মনীশ মালহোত্রা ও নাতাশা পুনাওয়ালা।

এবারের মূল ভাবনা ছিল ‘পোশাক শিল্প’। অতিথিদের পোশাকের ধরন নির্ধারণ করা হয় ‘শিল্পধর্মী সাজ’ হিসেবে। ১০ মে শুরু হওয়া বসন্তকালীন প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করেই এই ভাবনা ঠিক করা হয়। মানবদেহকে জীবন্ত ক্যানভাস হিসেবে তুলে ধরে পোশাককে নতুনভাবে উপস্থাপন করাই ছিল উদ্দেশ্য। প্রদর্শনীতে ভাস্কর্য প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়, যেখানে প্রকৃতি ও শিল্পের মেলবন্ধন ফুটে ওঠে।

প্রবেশমূল্যও এ বছর বেড়েছে। একটি টিকিটের দাম রাখা হয় প্রায় ১ লাখ ডলার, যা আগের বছর ছিল ৭৫ হাজার ডলার। টেবিল সংরক্ষণের প্রাথমিক মূল্য দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অংশগ্রহণকারী তারকারা সাধারণত নামী ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের পোশাক পরে উপস্থিত হন।

খাবারের ক্ষেত্রেও ছিল বিশেষ নিয়ম। অতিথিদের এমন খাবার দেওয়া হয়, যাতে পেঁয়াজ ও রসুন নেই। পাশাপাশি পোশাকে দাগ ফেলতে পারে—এমন খাবারও এড়িয়ে চলা হয়। ২০১৫ সাল থেকে চালু থাকা মুঠোফোন ব্যবহার নিষেধ নীতিও এ বছর বজায় রাখা হয়। ফলে অনুষ্ঠান চলাকালে মুঠোফোন ব্যবহার, সামাজিক মাধ্যমে কিছু প্রকাশ করা বা নিজের ছবি তোলা নিষিদ্ধ ছিল।

জাদুঘরে প্রবেশের পর থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হয়। বিশেষ করে রাতের ভোজের সময় মুঠোফোন ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। যদিও অতীতে কিছু তারকা গোপনে শৌচাগারে ছবি তুলে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন, আয়োজকেরা এমন আচরণ পছন্দ করেন না।

এছাড়া এই আয়োজনে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যার মধ্যে ইলেকট্রনিক সিগারেটও রয়েছে। জাদুঘরের মূল্যবান শিল্পকর্ম ও দামি পোশাক রক্ষার জন্যই এই নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয়।

আয়োজন শুরুর আগেই একটি বিতর্কও সামনে আসে। জেফ বেজোস ও তাঁর স্ত্রী লরেন সানচেজকে সহসভাপতি করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়। নিউইয়র্ক শহরের বিভিন্ন স্থানে বেজোসকে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে পোস্টার দেখা যায়। সমালোচকদের মতে, এই আয়োজন এখন শিল্পের চেয়ে ধনীদের শক্তি প্রদর্শনের জায়গা হয়ে উঠছে।

৪ মে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক আয়োজনটি বিশ্বজুড়ে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভারতীয় দর্শকেরা একটি ফ্যাশন সাময়িকীর ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি দেখেছেন। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, ৫ মে রাত ৩টা ৩০ মিনিটে সম্প্রচার শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ভারতীয় তারকাদের পাশাপাশি বহু হলিউড তারকাও অংশ নেন।