কুয়েটে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ঘোষণা, ইউনিক কোডিং সিস্টেমসহ নানা বিষয়ে আলোচনা সভা, কুয়েট, পুলিশ ফাঁড়ি, কুয়েট ক্যাম্প, পুলিশ ক্যাম্প, শিক্ষা, প্রযুক্তি, ছাত্র রাজনীতি, ক্যাম্পাসে রাজনীতি,
কুয়েটে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ঘোষণা, ইউনিক কোডিং সিস্টেমসহ নানা বিষয়ে আলোচনা সভা।   ছবি: আরটিএনএন

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, একাডেমিক কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে সকল বিভাগের ভিপি, জিএস ও সিআরদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।

সভায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা ইতোমধ্যে সরকারের অনুমোদন পেয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্প চালু হতে সময় লাগায় আগামী সপ্তাহ থেকেই অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়।

সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইউনিক আইডি কার্ড চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যার মাধ্যমে এক কার্ডেই বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করা যাবে। এটি চালু হতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

পরীক্ষা পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনতে খাতায় ইউনিক কোড সিস্টেম চালুর বিষয়টি শিক্ষকমহলে অনুমোদন পেয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের সম্মতি প্রয়োজন হবে।

একাডেমিক কাঠামোয় পরিবর্তন এনে ২০২৫ ব্যাচ থেকে নতুন সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে মিডটার্ম পরীক্ষা চালু এবং নম্বর বণ্টনে পরিবর্তন আনা হবে। বর্তমান ২০২১–২০২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চাইলে নতুন সিস্টেমে যুক্ত হতে পারবে, তবে এজন্যও সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মতামত প্রয়োজন।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে আগামী এক বছরের মধ্যে ছাত্রীদের জন্য নতুন ১০ তলা হল এবং দেড় বছরের মধ্যে ছাত্রদের জন্য নতুন ১০ তলা হল চালুর আশা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রশিদ ও ফজলুল হক হল ভেঙে ইইই, সিই ও এমই বিভাগের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট তিনটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম দেখা গেলে দ্রুত হল প্রভোস্ট বা ডিএসডব্লিউ অফিসকে জানাতে বলা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আইন নিজের হাতে না তুলে প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়া গভীর রাতে হলের বাইরের ছাত্রীদের চলাচলে কিছু এলাকায় সময়ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

সভায় গবেষণা ও স্টাডি ট্যুরের বাজেট বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের ক্যাফেতে রেস্টুরেন্ট, অডিটোরিয়ামের পাশে সেলুন ও ফার্মেসি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের এ বিষয়ে ডিএসডব্লিউ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা মনে করছে, সভায় গৃহীত এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কুয়েটের শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত হবে।