কুয়েটে শুরু হয়েছে তিন দিনের জাতীয় মেকানিক্যাল ফেস্টিভ্যাল ‘ইগনিশন-২০২৬’।
কুয়েটে শুরু হয়েছে তিন দিনের জাতীয় মেকানিক্যাল ফেস্টিভ্যাল ‘ইগনিশন-২০২৬’।   ছবি: আরটিএনএন

“ইগনাইট ইয়োর পটেনশিয়াল”-এই শক্তিশালী মন্ত্রকে সামনে রেখে কুয়েটে শুরু হয়েছে তিন দিনের জাতীয় মেকানিক্যাল ফেস্টিভ্যাল ‘ইগনিশন-২০২৬’। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টার প্রাঙ্গণে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তির বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো অন্যতম মূল ভিত্তি। এই ধরনের উৎসব শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতা, দলগত কাজ এবং শিল্পখাতের সাথে সেতুবন্ধন তৈরিতে সাহায্য করে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির কনভেনর ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস ইনামসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ শিক্ষকবৃন্দ। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পুরো আয়োজনের দক্ষ সমন্বয় করছেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আওরঙ্গ আলিফ। এবারের আসরটি অন্যান্য সময়ের চেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এবারের উৎসবে প্রায় ১,০০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে এবং ২২টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশ নিয়েছে। উৎসবের মোট প্রাইজপুল প্রায় ৬ লাখ টাকা, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশাল প্রণোদনা হিসেবে কাজ করছে। আয়োজক বিভাগ ছিল কুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং।

প্রকৌশলবিদ্যার বহুমুখী প্রতিভাকে ঝালিয়ে নিতে বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রোবোটিক্স, ডিজাইন ও প্রজেক্ট, ব্যবসায়িক ও তাত্ত্বিক প্রতিযোগিতা, মেকানিক্স ও অটোমোবাইল অলিম্পিয়াড, কন্টেন্ট রাইটিং এবং গেমিং কনটেস্ট। এসব ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারছে।

কুয়েটের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রায়ান ইসলাম বলেন, “এ ধরনের আয়োজন একাডেমিকের পাশাপাশি নিজের মেধা বিকাশে ও দেশ সেরা মেধাবীদের সাথে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। নিয়মিত এমন ফেস্টিভ্যাল আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু শিখতে উদ্যমী হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।”

আজ (২৫ এপ্রিল) সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা নামবে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের। সমাপনী পর্বে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বিশাল অংকের প্রাইজমানি ও সম্মাননা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘ইগনিশন-২০২৬’ থেকে বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের দক্ষ প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক যারা বাংলাদেশকে প্রযুক্তির শিখরে নিয়ে যাবে।