বগুড়ায় নাজমুল হত্যা, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার ১
মো. জাহিদ হাসান ওরফে উজ্জল গ্রেপ্তার।   আরটিএনএন

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার হাতিভাঙ্গা এলাকায় আলোচিত নাজমুল ইসলাম হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান।

সিআইডি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১২ মে সন্ধ্যায় বগুড়ার হাতিবান্ধা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিআইডির একটি আভিযানিক দল মো. জাহিদ হাসান ওরফে উজ্জলকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। তিনি গাবতলী উপজেলার হাতিবান্ধা পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় গাবতলী থানায় ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ অক্টোবর অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সিএনজি আনতে বাড়ি থেকে বের হন নাজমুল ইসলাম। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পর ২২ অক্টোবর হাতিবান্ধা এলাকার একটি আমন ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, নিহত নাজমুল ইসলামকে তার ফুপাতো ভাইয়ের দায়ের করা একটি ধর্ষণ মামলার আপোষ-মীমাংসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এতে রাজি না হওয়ায় গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ হাসান ও তার সহযোগীরা তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডির দাবি, পূর্ব শত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে নাজমুল ইসলামকে হত্যা করে মরদেহ ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি বগুড়া জেলা। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ হাসান ওরফে উজ্জলকে আদালতে সোপর্দপূর্বক রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটন ও অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।