১৯৯৯ সালে সাবেক সেনাপ্রধানের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন টিটন।
১৯৯৯ সালে সাবেক সেনাপ্রধানের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন টিটন।   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার বটতলায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটনকে হত্যার ঘটনা ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর ঘটে যাওয়া এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায় ছিল অত্যন্ত দ্রুত, ঠান্ডা মাথার এবং সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানানো এক ‘টার্গেট কিলিং’।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর টিটন দ্রুত হেঁটে নিউমার্কেট সংলগ্ন বটতলা এলাকা অতিক্রম করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে করে এসে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রথম ধাক্কার পরও তারা থেমে থাকেনি—একজন হামলাকারী মোটরসাইকেল থেকে নেমে দৌড়ে কাছে গিয়ে আরও কয়েক রাউন্ড গুলি করে। শেষ পর্যায়ে টিটনের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে, এরপর হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষজন ছুটোছুটি শুরু করে। এক কিশোর প্রত্যক্ষদর্শী রতন জানায়, গুলি চালানোর পর লোকজন চিৎকার করলে হামলাকারীরা একটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে সবাইকে ভয় দেখিয়ে দ্রুত সরে পড়ে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা টিটনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, টিটনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে মাথায় একাধিক গুলি ছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের শত্রুতার জের রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধ জগতের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ১৯৯৯ সালে সংঘটিত একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডে টিটনের সম্পৃক্ততা ছিল, এবং সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হতে পারে।

এছাড়া জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশনায় এই হত্যার ছক কষা হয়। প্রায় এক মাস আগে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ‘কিলার বাদল’ নামে পরিচিত ব্যক্তি দুবাই থেকে দেশে এসে টিটনের গতিবিধি নজরদারি করেন। এরপর সুযোগ বুঝে পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলাটি বাস্তবায়ন করা হয় বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় টিটনের নাম ছিল। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্ত হয়ে তিনি আবারও অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।

এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আইয়ুব জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় টিটনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় এমন প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কারণ জানা না গেলেও, এই ঘটনা ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন করে সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিমুল/এসএস