অনলাইন আয়ের ফাঁদ: কোটি টাকা আত্মসাৎ, সিআইডির জালে প্রতারক
অনলাইন আয়ের ফাঁদ: কোটি টাকা আত্মসাৎ, সিআইডির জালে প্রতারক   ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনে ‘টাস্ক’ সম্পন্ন করে সহজে আয় করার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত মো. হারুন অর রশিদ (২৯) জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার বুরুঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও প্রলোভনমূলক বার্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছিল।

সিআইডির তথ্যমতে, প্রতারক চক্রটি ‘অনলাইন টাস্ক’ এর নামে ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন কাজ করাতে উদ্বুদ্ধ করত। এসব কাজের মধ্যে ছিল নির্দিষ্ট পোস্টে লাইক ও শেয়ার দেয়া, বিভিন্ন অ্যাপ বা লিংকের মাধ্যমে নির্ধারিত কার্যক্রম সম্পন্ন করা ইত্যাদি। প্রথমদিকে স্বল্প পরিমাণ কাজের বিনিময়ে অল্প কিছু অর্থ প্রদান করে তারা ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করত। পরে অধিক লাভের আশ্বাস দিয়ে বড় ধরনের ‘টাস্ক’ সম্পন্ন করার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করত।

এভাবে ধাপে ধাপে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি চারটি বিকাশ নম্বর এবং নয়টি পৃথক ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকেই মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে।

ঘটনার শিকার ব্যক্তি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ফেসবুক পেজে অভিযোগ জানানোর পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হয়। পরবর্তীতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করার পরামর্শ দয়া হয়। এর ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২১ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ থানায় পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি সিআইডি অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলো বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আদালতের মাধ্যমে পাসপোর্ট জব্দ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় হারুনকে আটক করা হয়। পরদিন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে সিআইডির হেফাজতে নেয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হারুন প্রতারণার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। 

 

শিমুল/এসএস