আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ ঢাবি শিবিরের 
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।   ছবি: আরটিএনএন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী প্রার্থনা মজুমদারের মা রীতা রানী মজুমদারকে নিজ বাসভবনে  হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। 

একইসঙ্গে দেশে ক্রমবর্ধমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ঢাবি ছাত্রশিবির সভাপতি মহিউদ্দিন খান ও সেক্রেটারি কাজী আশিক এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

নেতৃদ্বয় বলেন, “দেশজুড়ে একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।”

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, “শিশু রামিসাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। কিন্তু অপরাধ দমনে কার্যকর উদ্যোগ, দ্রুত বিচার ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।”

বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণে গড়িমসি এবং পরবর্তীতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার সংস্কৃতি বিচারহীনতার পরিবেশ তৈরি করেছে। এর ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

তারা বলেন, “একটি সভ্য রাষ্ট্রে নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত অনিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।”

ঢাবি ছাত্রশিবির নেতারা অবিলম্বে রীতা রানী মজুমদার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

বিবৃতির শেষে নিহত রীতা রানী মজুমদার ও শিশু রামিসাসহ সাম্প্রতিক সহিংসতার শিকার সকলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।