বিশ্ব মা দিবস নিয়ে রাবি শিক্ষার্থীদের অনুভূতি
বিশ্ব মা দিবস নিয়ে রাবি শিক্ষার্থীদের অনুভূতি ।   ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের দিন কাটে ক্লাস, পরীক্ষা, বন্ধুবান্ধব ও নানা ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। তবে এই ব্যস্ত জীবনের আড়ালেও অনেকের মনে থেকে যায় এক গভীর শূন্যতা—মায়ের অভাব। বিশ্ব মা দিবসে সেই অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের কাছে।

দূরের শহর কিংবা গ্রামের বাড়ি ছেড়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে মা শুধু অভিভাবক নন, তিনি ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তির সবচেয়ে বড় আশ্রয়। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও মন খারাপের মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে মায়ের কথা।

শিক্ষার্থীরা জানান, বন্ধু ও সহপাঠীরা পাশে থাকলেও মায়ের অভাব কখনো পূরণ হয় না। বিশেষ করে অসুস্থতা কিংবা মানসিক চাপে মায়ের সান্নিধ্যের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ আলবী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মা দিবস মানে এক ধরনের হাহাকার। বাড়িতে থাকলে হয়তো আজ মায়ের হাসিমুখটা দেখতে পেতাম। এখানে ডাইনিংয়ের খাবার খেয়ে পেট ভরলেও মায়ের স্নেহের অভাব থেকেই যায়। অসুস্থ হলে কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় না, তখন মায়ের কথা আরও বেশি মনে পড়ে।

মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী লামিয়া বিশ্বাস বলেন,ক্যাম্পাস লাইফে মা দিবসের সবচেয়ে বড় অনুভূতি হলো মাকে যতটা ভালোবাসি, তার চেয়েও বেশি মিস করি। দূরে থাকলেই বোঝা যায়, মা শুধু একজন মানুষ নন, তিনি পুরো একটা শান্তির জায়গা।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন বলেন, বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। মায়ের তুলনা কোনো কিছুর সঙ্গে হয় না। আজ যদি মায়ের কাছে থাকতে পারতাম, তাহলে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হতো।

ইনফরমেশন অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী পুতুল আক্তার বলেন, ‘মা’ শুধু একটি শব্দ নয়, আমার পুরো পৃথিবী। মা বলে ডাকতে এক ধরনের মানসিক শান্তি অনুভব করি।

বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট, ছবি ও স্মৃতিচারণ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। কেউ লিখেছেন মায়ের ত্যাগের কথা, কেউবা দূরে থেকেও প্রকাশ করেছেন কৃতজ্ঞতা।

দিনশেষে ক্যাম্পাস জীবনের সব ব্যস্ততার মাঝেও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে মা রয়ে যান সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে। মা দিবস তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগ স্মরণ করার একটি আবেগঘন উপলক্ষ।