পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর, সবচেয়ে আপন শব্দ ‘মা’। জন্মের পর একটি শিশু যে শব্দটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারণ করে, সেটিও ‘মা’। ভালোবাসা, মমতা, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ স্নেহের প্রতীক এই মানুষটিকে সম্মান জানাতেই আজ (১০ মে) পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
মায়ের হাত ধরেই পৃথিবীর আলো দেখা, জীবনের প্রথম শিক্ষা গ্রহণ এবং ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা। একজন মা নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। সন্তানের হাসির জন্য নিজের কষ্ট আড়াল করে রাখেন তিনি। তাই মা শুধু একটি সম্পর্ক নয়; তিনি সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সাহস ও নির্ভরতার নাম।
বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়েদের নিয়ে স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার বার্তায় ভরে উঠেছে মানুষের টাইমলাইন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মায়েদের সম্মাননা প্রদান কর্মসূচি। কেউ ফুল দিয়ে, কেউ উপহার দিয়ে, আবার কেউ মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়ে দিনটিকে বিশেষ করে তুলছেন।
মা দিবসের ইতিহাস
বিশ্ব মা দিবসের ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় Ann Reeves Jarvis নামে একজন শান্তিবাদী সমাজকর্মী ছিলেন। তিনি নারী অধিকার ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
একদিন নিজের ছোট মেয়ে Anna Jarvis–এর সামনে অ্যান জারভিস আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমি প্রার্থনা করি, একদিন কেউ না কেউ মায়েদের জন্য একটি দিন উৎসর্গ করুক। কারণ তারা প্রতিদিন মানবতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে চলেছেন।’
মায়ের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন আনা জারভিস। ১৯০৫ সালে তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর তিনি মায়ের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে উদ্যোগ নেন। একই বছর নিজের সানডে স্কুলে প্রথমবারের মতো ‘মাদার্স ডে’ পালন করেন তিনি। ধীরে ধীরে দিনটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
পরে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Woodrow Wilson মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে।
মায়ের আত্মত্যাগের তুলনা নেই
একজন মা সন্তানের জন্মের আগ থেকেই তার জন্য সংগ্রাম শুরু করেন। গর্ভধারণের কষ্ট, সন্তান জন্মদান, লালন-পালন, শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ গঠনে মায়ের অবদান অপরিসীম। নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পরিবার ও সমাজ গঠনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মা শুধু একজন সন্তানকে বড় করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎও গড়ে তোলেন।
আজকের এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। তবে সচেতন মহলের মতে, মায়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং প্রতিটি দিনই হওয়া উচিত মাকে ভালোবাসা ও যত্ন করার দিন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!