বাংলাদেশ ও স্পেনের পতাকা
বাংলাদেশ ও স্পেনের পতাকা   ছবি সংগৃহীত

স্পেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ পেতে হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স। সংগঠনটি বলছে, প্রশাসনিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পেতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক প্রবাসী স্পেন সরকারের ঘোষিত বৈধকরণ কর্মসূচির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট ইস্যু এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রবাসীরা নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন। অথচ চলমান বৈধকরণ প্রক্রিয়া তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে তারা আইনগত স্বীকৃতি পেয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারবেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে জটিলতা এই সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সংগঠনটি মনে করে, বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত দুর্ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িত। প্রবাসীদের বৈধতা নিশ্চিত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অদক্ষতা, সমন্বয়ের অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা স্পেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে জরুরি ভিত্তিতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদানে অযথা বিলম্ব ও অনিয়ম বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে দালাল ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, এসব চক্রের কারণে প্রবাসীরা অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সময় অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, সরকার প্রবাসীদের এই দাবিগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও মানবিক সিদ্ধান্ত নেবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। 

এসএস