বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মহাদেব ঘোষ
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মহাদেব ঘোষ   ছবি: আরটিএনএন

ফ্রান্সের প্যারিসে ছাত্রাবাসে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মহাদেব ঘোষের মরদেহ আজ শুক্রবার (১৫ মে) দেশে ফিরছে। স্থানীয় সময় সকালে ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মরদেহ গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তা শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

গত ৪ মে বৃহত্তর প্যারিসের ৭৮ ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন জো-অঁ-জোসা এলাকার একটি ছাত্রাবাসের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফরাসি পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, ১১ মে ফরাসি পুলিশের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এটিকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে কোনো সহিংসতার চিহ্ন বা জোরপূর্বক প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তেও মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

২৩ বছর বয়সী মহাদেব ঘোষ ফ্রান্সের সনামধন্য বিজনেস স্কুল এইচইসি প্যারিসে এমবিএ প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত ছিলেন। এর আগে তিনি কিংস কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে ইতালিতে একটি কোর্স শেষ করে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে প্যারিসে যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মহাদেব ঘোষ ঝিনাইদহ জেলার কাটালাগাড়ি বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাবেক কৃষি সচিব ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শ্যামল কান্তি ঘোষ এবং সাগরদীপা ঘোষ রায় দম্পতির সন্তান।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি অনুমতি দিয়েছে। জো-অঁ-জোসা সিটি হল থেকে ডেথ সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্যারিসে অবস্থিত প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রয়োজনীয় সহায়তা ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিয়েছে।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আগামী রবিবার (১৭ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এ ঘটনায় ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। শোক জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফ্রান্স-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ), বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যান্ড অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক ইন ফ্রান্স এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ)।