জামায়াত জোটে গিয়ে এনসিপি তার রাজনৈতিক সতীত্ব হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, নিশ্চয়ই আপনাদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছিল- এমন কারও সঙ্গে জোট করব না, যার ৭১ এর দায় আছে। এনসিপি নেতা পাটোয়ারী বলেছিল- জামায়াত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি! এক্ষেত্রে ৭১ এর দায় নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট করা রাজনৈতিক সতীত্ব হারানের শামিল নয় কি? এবং যারা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি, তাদের সঙ্গে জোটে যাওয়া স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের বিপক্ষে অবস্থান নয় কি?
তিনি লেখেন, এনসিপি 'রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন' নেতাদের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা করেছে। আর যার সঙ্গে জোট করুক বা না করুক, জামায়াতের সঙ্গে কখনো জোট করবে না বলে বিএনপির যুগপৎ জোট থেকে এই দলকে বের করে আনে। নিশ্চয় দেখেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম তার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এনসিপি জানে না, তারা জাতির কতবড় ক্ষতি করেছে, জাতির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে কতবড় প্রতারণা ও বেইমানি করেছে। আজকে জাতিকে কোন জায়গায় এনে দাঁড় করাইছে, তারা জানেনা। জানলে আসলে তাদের অনেকেরই কথা বলার আগে, তাদের মুখ কালি দিয়ে ঢাইকে রাখতে হইতো..!
বিএনপির এই নেতা আরও লেখেন, এনসিপি যে এই প্রতারণা করবে, এটা আমি অনুমান করতে পেরেছিলাম। ঠিক এই কারণে, নাহিদ ইসলামকে প্রশ্ন করেছিলাম, তোমরা যে গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে জোট করতে চাও, এটার রুপরেখা কই? নাহিদ ইসলাম বলেছিল, এটা এখনো তৈরি হয়নি! আমি তাদের চোখ ও মুখের ভাষা দেখে বুঝে ফেলেছিলাম, তারা জোট করে মূলত বিএনপি বা জামায়াতে সঙ্গে নিজেদের মত বার্গেনিং করতে চায়! পরবর্তীতে আমি ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা করি যে, বিএনপির সঙ্গে ২২ সাল থেকে যুগপৎ আন্দোলনে আছি। এটাই তো একধরণের জোট। এনসিপির নেতাদের বয়স কম হলেও, তারা ইতোমধ্যে ১৪-১৫ মাসে যেসব বিতর্কে জড়িয়েছে, এটা বড় কোন দলের বড় নেতারা ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনেও জড়ায়নি। তাদের এসব বিতর্কের দায় আমরা কেন নিবো!
রাশেদ খাঁন লেখেন, পরিশেষে বলি, এই দেশে গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হলো না, এর দায় এনসিপি এড়াতে পারে না। ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ১৮ মাস সময় নিয়েছে সংস্কার ও বিচারের জন্য নয়, বরং এনসিপি নামক দল গঠনের জন্য। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এনসিপির প্রধান হিসেবে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে দেখলেও আমি অবাক হবো না। এনসিপি দল গঠন করার সময় দেওয়ার বিনিময়ে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস নিজের ব্যবসাবাণিজ্য, প্রতিষ্ঠান প্রসারিত করেছেন। এভাবে তিনি গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে। আমি এজন্যই দাবি করি, আওয়ামীলীগের ১৬ বছরের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসেরও বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া দরকার।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!