বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক: খেলাফত মজলিস 
বৈঠক করছেন খেলাফত মজলিস।   ছবি: আরটিএনএন

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতারা সীমান্ত পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন।

বৈঠকে নেতারা বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। একই সঙ্গে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়। 

এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ভারতের এমন আচরণকে ‘আধিপত্যবাদী’ বলে অভিহিত করেন।

নেতারা আরও বলেন, গত এক সপ্তাহে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হলেও এ বিষয়ে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব না করায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বলা হয়, হত্যা, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের হার বেড়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতেও জনজীবন চাপে রয়েছে।

কোরবানির পশুর হাট ইজারা সংক্রান্ত অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা “হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করেন নেতারা।

তারা আরও বলেন, ফেনী, সিলেট, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বারবার বন্যা দেখা দিলেও টেকসই বাঁধ নির্মাণ, খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রমে গতি নেই। পদ্মা ও তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে ব্যারেজ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে জনবল বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

এছাড়া শেখ হাসিনাসহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। বৈঠকটি পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। এতে দলের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।