তরুণদের উপেক্ষা করলে সরকারের অস্তিত্বই সংকটে পড়বে: শিবির সভাপতি
জাতীয় প্রেসক্লাবে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘তারুণ্যের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম।    ছবি: আরটিএনএন

তরুণদের উপেক্ষা করলে সরকারের অস্তিত্বই সংকটে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। 

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘তারুণ্যের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। সেমিনারে অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সাবেক ছাত্রনেতারা অংশ নেন।

শিবির সভাপতি বলেন, জুলাই আন্দোলনে তরুণদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়নে তরুণদের ভাবনা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব তরুণের আন্দোলনের ফলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে এসেছে, তাদের অবদানকে উপেক্ষা করা হলে সরকার নিজেদের অস্তিত্বই সংকটে ফেলবে।

সমাপনী বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, অতীতে বৈষম্যমূলক অর্থনীতি, ঋণনির্ভর উন্নয়ন ও দুর্নীতিনির্ভর প্রকল্প দেশের অর্থনীতিকে সংকটের মুখে ফেলেছে। তাঁর ভাষ্য, দেশের অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে অধিকাংশ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে, অথচ সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও করের চাপে বিপর্যস্ত।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে গঠিত নতুন গণতান্ত্রিক সরকার তরুণদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই বাস্তবতা ভুলে গেলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের আয়বৈষম্য ও অর্থপাচারের প্রসঙ্গ তুলে নূরুল ইসলাম বলেন, দেশের মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ ৯০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এস আলম ও বেক্সিমকোর মতো বড় শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংক খাত থেকে অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, অথচ সাধারণ মানুষকে ভ্যাটের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। তিনি নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি লুটপাটের রাজনীতি বন্ধ করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পরিবার পুনর্বাসনে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একে তিনি সরকারের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, ইউনেস্কোর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ন্যূনতম ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। সরকারি হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও সেবার মান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ড. মো. মিজানুর রহমান, ড. ওয়ারেসুল করিম, ড. শিব্বির আহমেদ, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।