শিক্ষা হবে আনন্দময়, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাভিত্তিক: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।   ছবি: আরটিএনএন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষা সত্যিকার অর্থে জাতির মেরুদণ্ড হয়ে উঠবে এবং শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পাবে।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা ফোরাম-২০২৬ এর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন জানান, তিনি সেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নয়, বরং একজন অভিভাবক হিসেবে কথা বলতে এসেছেন। 

তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে তোমরা যার যেটা পড়তে ভালো লাগে, সেটাই পড়াশোনা করতে পারবে। সবাইকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। 

মাহদী আমিন জানান, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সংগীত, চিত্রাঙ্কন কিংবা কোরআন তেলাওয়াত—যে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকবে, সরকার সেই ক্ষেত্রগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, চাইনিজ ও আরবি ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। এতে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বিশ্বব্যাপী নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে।

পরীক্ষাভীতি দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে প্রশ্নফাঁস বা নকলের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং শিক্ষার্থীরা ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে পারবে।

তিনি “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস” ধারণার কথা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার্থীদের দলগত কাজ, আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ক্লাসরুমকে আনন্দময় ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এ সময় তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্কুলে এক ধরনের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, জুতা এবং মিড-ডে মিল বা টিফিনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা ভিশনের অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের শিক্ষার্থীদের ওপর। তোমরা যত শক্তিশালী হবে, বাংলাদেশও তত শক্তিশালী হবে। সৎ, দক্ষ ও যুগোপযোগী নাগরিক হিসেবে তোমাদের গড়ে তুলতেই সরকার কাজ করছে।