২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত সমাবেশে গণহত্যার আজ ১৩তম বার্ষিকী। তৎকালীন বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রনেতা মিজানুর রহমানও (সাইফ খান মিজান) অংশ নেন সেই আন্দোলনে। বর্তমানে তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি বর্ণনা করেছেন শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং সেখানে বিএনপির ভূমিকা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান শাপলা চত্ত্বরের ঘটনার স্মৃতিচারণ বলেন, ২০১৩ সালে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ভাই ও হাবিবুর রশিদ হাবিব ভাই (বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী)। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না ভাই আমাকে শাপলা চত্ত্বরে যেতে বলেন। আমি কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে রওনা হয়ে গুলিস্তানে পৌঁছালে মুন্না ভাই। আমাদের পার্টি অফিসে যেতে বলেন।
সেই মোতাবেক শাপলা চত্ত্বরে না গিয়ে রওনা হই। কিন্তু পুরানা পল্টনে পৌঁছে দেখতে পাই হাজার হাজার পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সেখানে মোতায়েন রয়েছে।
আমি বিজয়নগর রাস্তা ধরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ-র্যাব বাধা দেয়। তখন আমি কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আমার আত্মীয় ভর্তি আছে এবং আমার সেখানে যাওয়া দরকার জানালে পুলিশ-র্যাব সদস্যরা আমাকে প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। আমি সেখান দিয়ে সেগুনবাগিচায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে দিয়ে বিজয়নগরের রাস্তা পার হতে গেলে টিয়ারসেলের মুখে পড়ে অজ্ঞানের মতো হয়ে যাই।
পরে সেখানে কয়েকজন রিকশাওয়ালা আমাকে গলির ভিতরে নিয়ে কাগজ জ্বালিয়ে আমাকে কিছুটা সুস্থ করে তোলে। পরে আমি নয়াপল্টনের পার্টি অফিসের দিকে রওনা হতেই ঢাকা ব্যাংকের কাছে আবারও টিয়ারসেলের মুখোমুখি হলে সেখানে মহানগর ছাত্রদলের ভাইয়েরা কাগজ জ্বালালে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে নয়াপল্টনে পার্টি অফিসের সামনে পৌঁছাই। সেখানে ভিতরে ছাত্রদলসহ বিএনপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়-মহানগর নেতারা অবস্থান করছিলেন। এমন সময় জানতে পারি ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি বিএনপি নেতাকর্মীদের ভোরে চিড়া-মুড়ি নিয়ে রাস্তায় দীর্ঘমেয়াদে থাকার প্রস্তুতি নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন।
আমরা তখন পার্টি অফিসের সামনে দেড়হাজারের মতো বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদল নেতাকর্মী অবস্থান করছিলাম। এ সময় কাকরাইল ও ফকিরাপুলের দিকে থেকে কয়েক হাজার বিজিবি, র্যাব ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী সদস্য আমাদের ঘিরে ফেলে, তখন তাদের সঙ্গে আমাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ভয়াল পরিস্থিতিতে একপর্যায়ে আমি দলছুট হয়ে শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটের সামনে চলে যাই এবং কয়েকজন সিকিটিউটি গার্ডের সহযোগিতায় মার্কেটের ভিতরে ঢুকে পড়ি।
পরে সেই মার্কেটের ছাদে উঠে যাই। সেখান থেকে অনেক বেশি শব্দ শুনতে পাই, অনেকটা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি। একপর্যায়ে নিচে তাকিয়ে দেখি সাদা পাঞ্জাবি বা জুব্বা পড়া কয়েকটি লাশ হাত-পায়ে ধরে পিকআপে ছুঁড়ে মারা হচ্ছে। এসব দৃশ্য দেখে আমি আরও বেশি ভয় পেয়ে যাই। তখন ছাদে আমি একা অবস্থান করি। পরে সকালে আমি ছাদ থেকে নেমে শান্তিনগর মোড়ে যাই। সেখানে থেকে একটি রিকশা নিয়ে মোহাম্মদপুর যাই। পরে বেরিবাঁধ হয়ে কেরানীগঞ্জের বাসায় চলে যাই। পরে টিভি নিউজে দেখি শাপলা চত্ত্বরে পুলিশের অভিযান চালিয়েছে।
পরিশেষে আমার মনে হয়েছে- আমার দলের সিদ্ধান্ত কোনোভাবে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। তাই দেরি না করে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। পরিকল্পনা মোতাবেক যদি বিএনপি সফল হতো, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে ফ্যাসিবাদী শাসনে নিষ্পেষিত হতো হতো না। আর শেখ হাসিনার পতনের জন্য জাতিকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!