অ্যাপভিত্তিক রাইড সার্ভিসে যুক্ত প্ল্যাটফর্ম শ্রমিকদের ওপর উবার ও পাঠাওয়ের স্বেচ্ছাচারিতা, মিথ্যা মামলা এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অবহেলার প্রতিবাদে ‘শ্রমিক সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বাঁচাও রাইড পরিষেবা ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশ থেকে ন্যায্য ভাড়া, কমিশন নির্ধারণ এবং শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাঁচাও রাইড পরিষেবা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বেলাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে অ্যাপভিত্তিক রাইড সার্ভিসে যুক্ত চালকদের ন্যায্য ভাড়া, ন্যায্য কমিশন এবং শোভন কর্মপরিবেশ না থাকায় বিআরটিএর রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭ সংশোধনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা, কিন্তু কোনো সমাধান বা নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, বিআরটিএ, শ্রমিকপক্ষ ও মালিকপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে “রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০২৫” অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, চালকদের দাবি-দাওয়া উপেক্ষিত থাকায় তারা হতাশার মধ্যে কষ্টে জীবনযাপন করছেন এবং এ অবস্থা থেকে মুক্তি চান।
বাঁচাও রাইড পরিষেবা ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা নাহিদুল হাসান নয়ন বলেন, বর্তমান সেক্টরের সংকট, শ্রমিকদের আয়হ্রাস, ২০–২৫ শতাংশ কমিশন, অ্যাপভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের নিরাপত্তাহীনতার কারণে চালকদের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ না থাকা, উচ্চ কমিশন কর্তন, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের চাপ, ডায়নামিক প্রাইসিং ব্যবস্থার কারণে আয়ের অনিশ্চয়তা এবং যথাযথ তদন্ত ছাড়া আইডি ডিঅ্যাকটিভেশন—এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
সংগঠনটির সদস্যসচিব শেখ মহসিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে এবং লিখিতভাবে স্মারকলিপি ও সংশোধিত নীতিমালা-২০২৫ প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা গণমাধ্যমের সামনে তাদের দুঃখ, কষ্ট ও দাবি তুলে ধরছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা সাতটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—বিআরটিএ কর্তৃক সংশোধিত “রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০২৫” দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ, সময়োপযোগী ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ, সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ, পাঠাও কর্তৃক দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, যথাযথ তদন্ত ছাড়া আইডি ডিঅ্যাকটিভেশন বন্ধ, শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাঁচাও রাইড পরিষেবা ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা এবং ঢাকা জেলা মাইক্রোবাস, জিপগাড়ি ও কার ভাড়ায় চালিত চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাদল আহমেদ।
বাঁচাও রাইড পরিষেবা ঐক্য পরিষদের সদস্যসচিব শেখ মোহাম্মদ মহসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় কারিগর ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইনসহ কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও ইউনিট পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!