ওজন কমানোর সময় দ্রুত ডায়েট পরিবর্তন বা পুষ্টির ঘাটতির কারণে অনেকেরই চুলপড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাধারণত সাময়িক এবং ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে সঠিক পুষ্টি ও জীবনযাপনের মাধ্যমে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ওজন কমানোর ৩ থেকে ৪ মাস পর অনেকেই অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন, যা টানা ৬ মাস পর্যন্ত চলতে পারে। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ বলা হয়। সাধারণত শরীরের হঠাৎ পরিবর্তন ও পুষ্টিহীনতার কারণে এটি দেখা দেয়।
হঠাৎ ওজন কমে গেলে বা ক্যালোরি গ্রহণ অনেক কমিয়ে দিলে শরীর একটি ‘সারভাইভাল মোডে’ চলে যায়। তখন শরীর চুলের বৃদ্ধির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কার্যকারিতা বজায় রাখতে শক্তি সংরক্ষণে মনোযোগ দেয়। এর ফলে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে।
চুল মূলত কেরাটিন নামের প্রোটিন দিয়ে গঠিত। পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে এই কেরাটিনের উৎপাদন ব্যাহত হয়, ফলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঝরে যেতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর সময় খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, আয়রন, জিংক, বায়োটিনসহ ভিটামিন এ, সি, ডি, ই এবং বি১২-এর ঘাটতি হলে চুলপড়ার সমস্যা আরও বাড়ে। পাশাপাশি হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও এর একটি বড় কারণ হতে পারে। ইনসুলিন, ইস্ট্রোজেন, টেস্টোস্টেরন ও থাইরয়েড হরমোনের পরিবর্তন চুলের ওপর প্রভাব ফেলে।
চুল পড়া স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক তা বুঝতে ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি’র তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে ওজন কমানোর পর চিরুনি বা শ্যাম্পুর সময় অতিরিক্ত চুল পড়লে তা টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অতিরিক্ত কড়া ডায়েট এড়িয়ে চলা উচিত এবং সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। ডায়েটে প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা সাধারণত সাময়িক। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চুল পড়া চলতে থাকলে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সঠিক যত্ন নিলে ধীরে ধীরে নতুন চুল গজানো স্বাভাবিক হয়ে আসে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!