আইনজীবী সমিতি নির্বাচন ঘিরে কারচুপির অভিযোগ
আইনজীবী সমিতির ২০২৬–২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ভোট কারচুপি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স।   ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবী সমিতির ২০২৬–২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ভোট কারচুপি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের বিরুদ্ধে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আয়োজনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে সংগঠনের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ বলেন, গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রতিটি ধাপেই পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া একটি পক্ষের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদান, বুথে ঢুকে জোরপূর্বক ব্যালটে সিল মারা, বিরোধী প্যানেলের কমিশনার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া, যাচাই-বাছাই ছাড়াই ব্যালট বিতরণ এবং আগেই ভোট প্রদান দেখানোর মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি সুসংগঠিত কারচুপির অংশ বলে দাবি করা হয়।

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, অতীতে যেসব পক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার অনিয়ম ও দমন-পীড়নের সমালোচনা করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধেই একই ধরনের অভিযোগ উঠছে, যা আইনজীবী সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রত্যাশার সঙ্গে এ ধরনের নির্বাচন সাংঘর্ষিক। তাই জাল ভোট, বুথ টেম্পারিং এবং বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং আইনজীবী সমাজের গণতান্ত্রিক চর্চা অক্ষুণ্ণ থাকে।