ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির   ছবি: সংগৃহীত

গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহর (ফ্লোটিলা) নিয়ে ফরাসি নাগরিকদের প্রতি ‘অগ্রহণযোগ্য আচরণ’, হুমকি ও সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ফ্রান্স। এর অংশ হিসেবে তাকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, গাজামুখী এই সহায়তা বহরের পদ্ধতির সঙ্গে ফ্রান্স একমত নয় এবং এমন উদ্যোগ কার্যকর ফল বয়ে আনে না। বরং এটি কূটনৈতিক ও কনস্যুলার পরিষেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও কোনো ফরাসি নাগরিকের বিরুদ্ধে হুমকি, ভীতি প্রদর্শন বা সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে তা যদি কোনো দেশের সরকারি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আসে বা তার ইন্ধনে ঘটে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ফরাসি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এমন আচরণ নতুন নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বেন-গভিরের দীর্ঘদিনের উসকানিমূলক বক্তব্য, উগ্র কর্মকাণ্ড এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার ধারাবাহিকতারই এটি অংশ।

এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার উদ্যোগ। এতে অংশ নেওয়া বিদেশি কর্মীরা অভিযোগ করেন, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ এর সদস্যদের ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আটক করার পর তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

এই অভিযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করেই ফ্রান্স সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এ বিষয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ফ্লোটিলা ঘিরে উত্তেজনা ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় এখনো ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও গাজা পরিস্থিতিকে ঘিরে ইউরোপীয় কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।