পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় ২৩১ জন বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানিসহ কয়েকটি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন রোধে চালানো অভিযানে আটক করা হয়েছে তাদের।
গত সোমবার এবং মঙ্গলবারের (২৭ ও ২৮ এপ্রিল) অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের। এক বিবৃতিতে উগান্ডার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম দিকে এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল দেশটির উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত এক দল নাইজেরীয়। পরে একই সময়ে রাজধানী কাম্পালার একটি অঞ্চলেও অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেখান থেকেই আটক করা হয়েছে এই ২৩১ জন।
এই আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও রয়েছেন ঘানা, মিয়ানমার, ইথিওপিয়া, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া এবং মালয়েশিয়ার নাগরিকরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বিপুল সংখ্যক বিদেশি উগান্ডায় বসবাস বা কাজ করছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালনা করা হয়েছিল অভিযান। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬৯ জন পুরুষ, বাকি ৬২ জন নারী। তাদের কারো কাছ থেকে উগান্ডায় বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বৈথ নথি বা কাগজপত্র পায়নি উগান্ডার পুলিশ। এমনকি অনেকের কাছে পাসপোর্টও পাওয়া যায়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'কিছু লোকের দাবি- চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের উগান্ডায় পাচার করা হয়েছে। অন্যরা সাইবার-স্ক্যামিং কার্যকলাপে জড়িত ছিল। কয়েকজনের কাছে এমন সামগ্রী পাওয়া গেছে, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয়।'
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, কেউ আইন ভঙ্গ করেছে বলে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। উগান্ডার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইমন পিটার মুন্ডেয়ি মার্কিন বার্তাসংস্থা এপিকে বলেছেন, আটকদের তিন ভাগে ভাগ করায়েছে—সন্দেহভাজন পাচারের শিকার, অভিযুক্ত অপরাধী এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবৈধভাবে বসাবাস করলেও কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। এই তিন গ্রুপকে আলাদা করা হয়েছে এবং পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মুন্ডেয়ি জানান, পাচারের শিকাররা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের টিকিট কিনে উগান্ডা ছাড়তে সহায়তা করা হবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষ যাদের পাচারের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, উগান্ডা বিদেশিদের স্বাগত জানানায়। নিজ দেশে চলমান সহিংসতো থেকে বাঁচতে কঙ্গো, বুরুন্ডি এবং দক্ষিণ সুদানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর কয়েক লাখ মানুষ আফ্রিকার এই দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছে। আফ্রিকা এবং আফ্রিকার বাইরের অনেক দেশের মানুষের জন্যই স্বল্পকালীন সফরে উগান্ডায় যেতে ভিসার প্রয়োজন হয় না।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!