বিমানবন্দর
মক্কায় তৈরি হবে বিমানবন্দর।   ছবি: সংগৃহীত

হজ ও ওমরা পালনকারীদের যাতায়াত নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে মক্কায় তৈরি হবে বিমানবন্দর এবং অত্যাধুনিক মেট্রোরেল। 

সম্প্রতি হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ অ্যারাবিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে 'রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড দ্য হোলি সাইটস'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আল-রশিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সালেহ আল-রশিদ জানান, মক্কায় বিশ্বমানের বিমানবন্দর নির্মাণের বিস্তারিত সমীক্ষা ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বিমানবন্দরের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত দিকগুলো অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি উপযুক্ত বিনিয়োগ মডেল তৈরি করার কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরটি এমনভাবে ডিজাইন করা হবে যাতে মক্কার বাসিন্দা ও দর্শনার্থী উভয়েরই সুবিধা হয়, তবে পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ না হয়।

অন্যদিকে, দ্রুত এগোচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল প্রকল্পও। ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং প্রাথমিক নকশা সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। মেট্রোরেল চালু হলে হজ ও ওমরাকালীন জনজট কমানো এবং যাতায়াতের গতি বৃদ্ধি পাবে।

মক্কার গণপরিবহন ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে জানিয়ে সালেহ আল-রশিদ জানান, বর্তমানে ১২টি রুটে ৪০০টি বাস চলাচল করছে, যা ৪৩০টি স্টপ এবং কেন্দ্রীয় এলাকার চারটি প্রধান স্টেশনকে কাভার করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই পরিষেবা ১৮ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি যাত্রীকে সেবা দিয়েছে।

সড়ক অবকাঠামোতেও বড় সংস্কার করা হয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় রিং রোডের কাজ শেষ করে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মসজিদুল হারাম ও অন্যান্য পবিত্র স্থানে যাওয়ার সংযোগকারী সড়কগুলোর যাতায়াত অনেক উন্নত হয়েছে, বিশেষ করে কিং আব্দুল আজিজ রোড ও ইব্রাহিম আল খলিল রোড।

এই প্রকল্পগুলো সৌদি সরকারের 'ভিশন ২০৩০' উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য হজ ও ওমরার সময় হাজিদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং মক্কা নগরীর আধুনিকায়ন।