ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, মোজতবা খামেনি
তেহরানে সমর্থকদের সাথে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি   ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর কথা বিবেচনা করলে, এখন পর্যন্ত দেওয়া বার্তাগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির প্রতি ইরানে জোরালো সমর্থন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে সৃষ্ট এক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত কঠিন এক পরিস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

তবে তার সামনে কেবল এই একটি সমস্যাই নয়। অভ্যন্তরীণ দিক বিবেচনা করলে, বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং এর সাথে যুক্ত অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে পঙ্গু হয়ে পড়া অর্থনীতি সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জও তাকে নিতে হবে। সামাজিক দিক থেকে দেখলে, তার নিয়োগের ঘোষণার পর থেকে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে সমর্থকরা নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সমর্থন জানাতে সমবেত হন। এছাড়া শহরের রাজনৈতিকভাবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বিপ্লব স্কয়ারেও জনসমাগম দেখা গেছে, যদিও সেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সব মিলিয়ে দেশের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি আবহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এটি একটি বিভক্ত সমাজ। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। মূলত অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হলেও, পরে এর সাথে রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবিদাওয়াও যুক্ত হয়েছিল।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন কি না এবং এই সমস্ত জটিলতা সামলাতে পারবেন কি না—তা দেখার জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগ একটি বড় জুয়া, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থানের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে তা এখনও অজানা।

মোজতবাকে তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চেয়েও বেশি কঠোর আদর্শের অধিকারী বলে মনে করা হয়। আইআরজিসি এবং রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্রের সাথে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কট্টরপন্থি হিসেবে তার এই পরিচিতি এবং প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ছেলে হওয়ার মর্যাদা—এই দুই মিলে সংস্কার আনার ক্ষেত্রে তাকে হয়তো কিছুটা বেশি স্বাধীনতা দেবে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, শাসনব্যবস্থায় সংস্কার আনার মতো বৈধতা বা গ্রহণযোগ্যতা তার রয়েছে। অন্য কাউকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে খুব সহজেই একটি বৈধতার সংকট তৈরি হতে পারত।

তার নেতৃত্ব এখন ইরানকে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পারে। হয় তিনি তার আদর্শের ওপর আরও বেশি জোর দেবেন, যার ফলে ইরান আরও বেশি মেরুকরণের শিকার হবে এবং আঞ্চলিকভাবে একঘরে হয়ে পড়বে; অথবা তিনি এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একটি পথ খুঁজবেন। এর অংশ হিসেবে তিনি হয়তো প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক উন্নত করতে পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এমন বার্তা দিতে পারেন যে, ইরান নিজেকে বদলাতে প্রস্তুত।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই