‘পাশের বাড়ির মেয়ে’র চরিত্রে তামিল ও তেলুগু সিনেমার দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী এখন অনেকটাই আড়ালে।
‘পাশের বাড়ির মেয়ে’র চরিত্রে তামিল ও তেলুগু সিনেমার দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী এখন অনেকটাই আড়ালে।   ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণি সিনেমার দর্শকের কাছে ২০০০ সালের শুরুর সময়টা আজও এক নস্টালজিয়ার নাম। সেই সময় পর্দাজুড়ে ছিলেন রীমা সেন। ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’র চরিত্রে তামিল ও তেলুগু সিনেমার দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী এখন অনেকটাই আড়ালে। খ্যাতির শিখর ছুঁয়েও কেন তিনি আলো ঝলমলে দুনিয়া ছেড়ে সরে গেলেন-সে গল্পই যেন এক ভিন্ন জীবনচিত্র।

রিমা ১৯৮১ সালের ২৯ অক্টোবর কলকাতায় বৈদ্যব্রাহ্মণপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতার সেন্ট টমাস গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক জীবন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তাদের পরিবারসহ মুম্বাইতে স্থানান্তরিত হন।

রীমা সেন খুব অল্প বয়সেই মডেলিং শুরু করেন। নব্বইয়ের শেষ দিকে জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। সেই সময়ের হিট অ্যালবাম ভিডিওগুলোতে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি নির্মাতাদের নজর কাড়ে, আর সেখান থেকেই খুলে যায় সিনেমার দরজা।

২০০০ সালে তেলুগু ছবি ‘চিত্রাম’ দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু। প্রথম ছবিই দর্শকের মন জয় করে নেয়। তবে সত্যিকারের তারকাখ্যাতি পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি তাঁর। ২০০১ সালে ‘মিনালে’ মুক্তির পর রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে উঠে যান তিনি। ছবিটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন আর মাধবন।তার প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র ছিল হাম হো গায়ে আপকে, যেটি সুপার ফ্লপ হওয়ার কারণে তামিল ছবিতে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেন।

‘ভাসেগারা’ গানটি যেন তাঁর ক্যারিয়ারের পরিচয় হয়ে ওঠে। কলেজ রোমান্সের আবহ, সরল অভিব্যক্তি আর স্বাভাবিক পর্দা উপস্থিতি-সব মিলিয়ে রীমা সেন হয়ে ওঠেন সেই সময়ের রোমান্টিক সিনেমার অন্যতম মুখ। আজও গানটি বাজলে বহু দর্শকের মনে ভেসে ওঠে তাঁর হাসি ও সহজ অভিনয়।

এরপর তামিল ও তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন তিনি। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্নধর্মী চরিত্রেও দেখা যায় তাঁকে। কখনো রোমান্টিক নায়িকা, কখনো সাহসী বা নেতিবাচক চরিত্র—সবখানেই নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম ছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয়যাত্রা দক্ষিণি সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে বলিউডেও পৌঁছায়। ২০১২ সালে ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’–এ তাঁর উপস্থিতি সমালোচকদের নজর কাড়ে। সেটিই হয়ে যায় তাঁর শেষ চলচ্চিত্র।

ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়েই ব্যক্তিগত জীবনের দিকে ঝুঁকে পড়েন রীমা সেন। ২০১২ সালে তিনি ব্যবসায়ী শিব করণ সিংকে বিয়ে করেন। পরের বছর মা হওয়ার পর ধীরে ধীরে সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় নয়, কোনো ঘোষণা নয়-শুধু আলো ঝলমলে জগত থেকে নীরব প্রস্থান।

অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো আবার ফিরবেন। কিন্তু রীমা নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পরিবার, সন্তান ও ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি মিডিয়া ও লাইমলাইট থেকে দূরে থাকাকে বেছে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি খুব কম সক্রিয়, জনসমক্ষে দেখা মেলে আরও কম।

তবে আড়ালে থাকলেও রীমার জনপ্রিয়তা ফিকে হয়নি। পুরোনো গান, সিনেমা কিংবা দক্ষিণি সিনেমার নস্টালজিয়া ঘিরে আলোচনা উঠলেই ফিরে আসে তাঁর নাম।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

এমআর/আরটিএনএন