সুপারস্টার থালাপতি বিজয়।
সুপারস্টার থালাপতি বিজয়।   ছবি: সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গত কয়েক দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার অবসান হলো অবশেষে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অভিনেতা বিজয় নেতৃত্বাধীন তামিরাগা ভেট্টরি কাঝাগামকে (টিভিকে) সমর্থন দিয়েছে থল তিরুমাভালাভানের দল ভিসিকে। ফলে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। 

আগামীকাল রবিবার সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।  তার সঙ্গে আরও ৯ জন মন্ত্রীর শপথ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২৯৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮টি আসন। একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজয়ের টিভিকে ১০৮ আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে কিছুটা দূরে ছিল। তবে শনিবার (৯ মে) দুপুরে ভিসিকে (২ আসন) এবং আইইউএমএল (২ আসন) নিঃশর্ত সমর্থন দেয়ায় বিজয়ের জোটের আসন সংখ্যা এখন ১২০-এ পৌঁছেছে।

রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে পাঠানো চিঠিতে ভিসিকে জানিয়েছে, তামিলনাড়ুতে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার নিশ্চিত করার স্বার্থেই তারা বিজয়কে সমর্থন দিচ্ছে। এর আগে কংগ্রেসের পাঁচজন এবং বাম দলগুলোর চারজন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দিয়েছিলেন। 

রুপালি পর্দার নায়ক থেকে রাজনীতির ময়দানে বিজয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন তার হাজারো ভক্ত।  কেউ কেউ তার ছবি বুকে ট্যাটু করেও আনন্দ প্রকাশ করছেন। তবে, ভক্তদের আবেগের বাইরে বিজয়ের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন বাস্তবতা।  তিনি আগে কখনও কোনো সরকারি বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেননি।  আর ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির রাজ্য তামিলনাড়ু পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়।

তার নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন রাজ্যটির ওপর রয়েছে বিপুল ঋণের চাপ।  গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে তামিলনাড়ুর ঋণ ২ দশমিক ৮ লাখ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ৬ লাখ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।

টিভিকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তামিলনাড়ুকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।  এখন রুপালি পর্দার জনপ্রিয় নায়ক থেকে বাস্তবের জননেতা হয়ে ওঠার পথে বিজয়কে প্রমাণ করতে হবে, তিনি কতটা কার্যকর ও সফল নেতা হতে পারেন। 

ডিএমকে-এআইএডিএমকে যুগের অবসান

বিজয় ও তার দল টিভিকের এই জয় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করল। গত ৬২ বছর ধরে রাজ্যটির ক্ষমতায় পর্যায়ক্রমে ছিল ডিএমকে ও এআইএডিএমকে। মাত্র দুই বছর আগে দল গঠন করে বিজয় সেই দীর্ঘ আধিপত্য ভেঙে দিলেন। এবারের নির্বাচনে ডিএমকে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি আসন পেয়েছে।

তামিলনাড়ুর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে প্রধান এম কে স্টালিন তার মিত্র দলগুলোর (ভিসিকে ও বাম দল) এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্যে চলমান রাজনৈতিক সংকট এড়াতেই তারা বিজয়কে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যোগাযোগ না করেই ডিএমকের সঙ্গ ত্যাগ করে বিজয়কে সমর্থন দেওয়া ‘পেছন থেকে ছুরি মারার’ শামিল।

পর্দার আড়ালের নাটক

গত বুধবার থেকেই সরকার গঠনের দাবি নিয়ে কয়েক দফায় রাজভবনে গিয়েছিলেন বিজয়। কিন্তু রাজ্যপাল আর এন রবি ১১৮ জন বিধায়কের সই করা শারীরিক চিঠির দাবিতে অনড় ছিলেন। শুক্রবার রাতে এএমএমকের এক বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত আজ দুপুরে ভিসিকে প্রধান তিরুমাভালাভান সরাসরি বিজয়ের হাতে সমর্থনপত্র তুলে দেয়ায় সব বাধা দূর হলো।

সবকিছু ঠিক থাকলে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন থালাপতি এবং এর মাধ্যমেই দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।


সূত্র: এনডিটিভি, দ্য হিন্দু 

এসএস