অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জো সালদানা ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী হিসেবে উঠে এলেন শীর্ষে। তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এর সাফল্যের কারণে এই রেকর্ড গড়েন তিনি।
সালদানা অভিনয় করেছেন বিশ্বের তিনটি সর্বোচ্চ আয়কারী ছবিতে। সেগুলো হলো ২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’, ২০২২ সালের সিক্যুয়েল ‘দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ এবং ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। এছাড়া তিনি প্রথম নারী অভিনেত্রী যিনি চারটি ছবিতে দুটি বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়্যার’ ছবিটি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে সালদানা একটি ভিডিও পোস্ট করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, এই অসাধারণ যাত্রার জন্য যা আমাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে আমি যেসব প্রকল্পে কাজ করেছি সেগুলোর অসাধারণ টিম এবং পরিচালকদের জন্য।
তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘স্টার ট্রেক’ পরিচালক জে. জে. অ্যাব্রামস, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ পরিচালক জো ও অ্যান্থনি রুসো, ‘গার্ডিয়ানস’ পরিচালক জেমস গানের এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ‘অ্যাভাটার’-এর জেমস ক্যামেরনকে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিশ্বাস এবং দিকনির্দেশনা কেবল এই ছবিগুলোকেই নয়, আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে।’
সালদানা ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আপনারা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। এই সাফল্য আমাদের সকলের। আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী রেকর্ড ভাঙার ব্যক্তি আবার একজন নারীই যেন হন।
ইতিমধ্যে বৈচিত্রময় সব চরিত্রে তিনি দর্শকের মন জয় করেছেন। অ্যাভাটারের পাশাপাশি সালদানা মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে গামোরা চরিত্রেও তিনটি ছবি করেছেন। তিনি ‘স্টার ট্রেক’ ত্রয়ীতেও অভিনয় করেছেন। সেগুলো সারা পৃথিবীতে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে।
২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, তার চলচ্চিত্রের মোট আয় ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। তবে ডিসেম্বরের ‘অ্যাভাটার’ ত্রয়ীর শেষ সিনেমাটি ১.২৩ বিলিয়ন আয় করার পর তিনি প্রথম স্থানে পৌঁছে গেছেন। এখন তার সব ছবির মোট আয় ১৫.৪৭ বিলিয়ন ডলার।
২০২৫ সালের মার্চে তিনি ‘এমিলিয়া পেরেজ’ ছবিতে সহকারী অভিনেত্রীর জন্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার জয় করেন এবং প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়েন। সেই বছরের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসব ও পুরস্কারেও তিনি সাফল্য পান।
‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ ছবিতে তিনি নাভি যোদ্ধা নেইতিরি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তার চরিত্রের রূপান্তরের জন্য অভিনয় এবং পারফরম্যান্স ক্যাপচার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
জো সালদানার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্যাসাইকে। তার শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে। পুয়ের্তো রিকান মা ও ডোমিনিকান বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া তিনি ও তার দুই বোন ঘরে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে বড় হয়েছেন। তার বয়স যখন মাত্র ৯, তখন এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মারা যান। এরপর পরিবারসহ তিনি ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে চলে যান। সেখানে ইকোস এস্পাসিও দে দান্সা নৃত্যশালায় নৃত্যের প্রশিক্ষণ নেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি আবার নিউ ইয়র্কে ফিরে আসেন এবং যুব থিয়েটার দলগুলোর সঙ্গে অভিনয় শুরু করেন।
১৯৯৯ সালে টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ল অ্যান্ড অর্ডার’-এ দুটি ছোট অতিথি চরিত্রে অভিনয়ের পর সালডানা বড় সুযোগ পান সেন্টার স্টেজ (২০০০) ছবিতে। সেখানে নিউ ইয়র্ক সিটির একটি ব্যালে স্কুলের শিক্ষার্থীদের গল্প তুলে ধরা হয়। এরপর তিনি গেট ওভার ইট (২০০১) এবং ব্রিটনি স্পিয়ার্স অভিনীত ‘ক্রসরোডস’ (২০০২)-সহ একাধিক কিশোরকেন্দ্রিক ছবিতে অভিনয় করেন। একই বছর উচ্চপ্রোফাইল ছবি ‘ড্রামলাইন’-এ পার্শ্ব চরিত্রে দেখা যায় তাকে।
২০০৩ সালে জনপ্রিয় ছবি ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: দ্য কার্স অব দ্য ব্ল্যাক পার্ল’-এ তিনি একটি নারী জলদস্যুর ছোট কিন্তু স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। পরের বছর স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘দ্য টার্মিনাল’ (২০০৪) ছবিতে তিনি একজন অভিবাসন কর্মকর্তার ভূমিকায় ছিলেন। পরবর্তী কয়েক বছর সালডানাকে মূলত ছোট পরিসরের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন কাজেই দেখা গেছে।
২০০৯ সালে জো সালডানা তিনি একসঙ্গে দুটি আইকনিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজের চরিত্রগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা সিনেমা ‘স্টার ট্রেক’-এ তিনি লেফটেন্যান্ট উহুরার চরিত্রে অভিনয় করেন। একই বছরে মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি জেমস ক্যামেরনের বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অ্যাভাটার’-এ নেইতিরি চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান।
এমআর/অরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!